মতিঝিলে ভবন দখলের অভিযোগ: যুব অধিকার পরিষদ থেকে সানি সারোয়ার বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মতিঝিলের ‘বাংলার বাণী’ ভবন দখলের অভিযোগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সানোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনের উপ-দপ্তর সম্পাদক নাইম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বহিষ্কারের আদেশে বলা হয়েছে, সানি সানোয়ারের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে তাকে সাংগঠনিক সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক মানবজমিনে ‘সেই আলোচিত ভবনটি এখন একজন প্রতিমন্ত্রীর কব্জায়’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং এর পরই সানি সানোয়ারের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মতিঝিলের বাংলার বাণী ভবনটি ঘিরে কয়েক দফায় দখলের মহড়া চলে। শেষ পর্যন্ত ভবনটির অধিকাংশ অংশ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের কব্জায় চলে যায়। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ওই প্রতিবেদনে সানি সারোয়ারের নামও উঠে আসে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে প্রায় পুরো ভবনটিই দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শুধুমাত্র একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত অংশটি তারা দখলে নিতে পারেনি। ৫ই আগস্টের পর বিক্ষুব্ধ জনতা একবার এই ভবনটিতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী নেতারা ভবনটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা সুবিধা করতে পারেননি। এরপর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও ভবনটি দখলের চেষ্টা করেন, তবে তারাও কিছুদিন পর সেখান থেকে সরে দাঁড়ান।
can দুই দফা দখল চেষ্টার পর অবশেষে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ভবনটিতে হানা দেন। দলটির সভাপতি নুরুল হক নুরের নির্দেশেই ভবনটির দুটি ফ্লোর তালা মেরে রাখা হয়েছে। এছাড়া ভবনটির পেছনের অংশে সম্প্রতি একটি রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মালিকানায় গণঅধিকার পরিষদ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
সানি সারোয়ারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—ভবনটি মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন সারোয়ার হোসেন সানী নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে নুরুল হক নুরের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন এবং গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে এসব দখল ও নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।



























