নাব্যতা সংকটে রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাট, হেঁটে পার হচ্ছেন যাত্রীরা
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের আওতাধীন রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাটে তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে উঠেছে। এতে নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং নৌকার মাঝিরা। যাতায়াত সচল রাখতে স্থানীয়রা দ্রুত এই নৌপথে ড্রেজিং করার দাবি জানিয়েছেন।
চর রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ না থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ। রাজিবপুর ও এর আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বাসিন্দারা চিলমারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাট ব্যবহার করেন। বর্ষার সময় যাতায়াত সহজ হলেও পানি কমতেই দুর্ভোগ শুরু হয়।
চর রাজিবপুরের করাতিপাড়ার বাসিন্দা জরিপ উদ্দিন জানান, বর্ষার প্রায় তিন মাস নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু পানি কমতে শুরু করলেই নদীর বিভিন্ন অংশে চর জেগে ওঠে এবং ঘাট থেকে মূল নৌপথ অনেক দূরে সরে যায়।
সম্প্রতি রাজিবপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে একসময় নৌকা ভিড়ত, সেখান থেকে পানি কমে ঘাট অনেক দূরে চলে গেছে। চর রাজিবপুরে কর্মরত কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা জানান, বর্ষাকালে নয়ারচর ও রাজিবপুর ঘাট থেকে সহজে নৌকায় চিলমারী যাওয়া গেলেও শুষ্ক মৌসুমে ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ বালুর চরের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। বালু ও কাঁচা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন সেখানে যেতে চায় না, আর গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে।
নৌকার মাঝি সামেজ মিয়া জানান, ঘাটের পাশাপাশি চিলমারীর পথে নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। অনেক সময় নৌকা মাঝপথে আটকে গেলে যাত্রীদের নামিয়ে বা ঠেলে পার করতে হয়। নয়ারচর ঘাটের খেয়া নৌকার মাঝি আলম মিয়া বলেন, পানি কমে যাওয়ার কারণে নয়ারচর ঘাট থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নতুন করে নৌকাঘাট সরাতে হয়েছে, যা মানুষের পারাপারকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, রাজিবপুর ও নয়ারচর হাট চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান বাজার। কিন্তু ঘাটে নৌকা ভিড়তে না পারায় ব্যবসায়ীদের মাথায় করে দীর্ঘ পথ পণ্য বহন করতে হচ্ছে।
রাজিবপুর ঘাটের ইজারাদার মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ-এর কাছ থেকে নিয়মিত ঘাট ইজারা নেওয়া হলেও এখানে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। নদী আরও শুকিয়ে গেলে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পার্শ্ববর্তী রৌমারী উপজেলার নৌপথে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় তারা সহজে চিলমারী যাতায়াত করতে পারলেও রাজিবপুর ও নয়ারচরের ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে চিলমারী নদীবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব আলম জানান, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে এই নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি তারা অবগত আছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



























