ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিমানবন্দরে কর্মকর্তা লাঞ্ছনা, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান বিভিন্ন সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত হন এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে মালামাল পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের অনুরোধে সেখানে আসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি যখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তার দিকে তেড়ে যান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে "আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা" ও "ঘাড় ধরে বের করে দিবো" বলে হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়েও অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য করেন। এর মধ্যেই তার সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই (KPI) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।

সেখানে कर्तव्यরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও করতে নিষেধ করলে মেজর আখতারুজ্জামান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া ট্রলিতে রাখা সাধারণ যাত্রীদের পবিত্র জমজমের পানির বোতল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন করেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের উগ্র আচরণের কারণে একটি স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় কেপিআই স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে, যা সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ও হুমকির অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে কর্মকর্তা লাঞ্ছনা, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান বিভিন্ন সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত হন এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে মালামাল পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের অনুরোধে সেখানে আসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি যখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তার দিকে তেড়ে যান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে "আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা" ও "ঘাড় ধরে বের করে দিবো" বলে হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়েও অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য করেন। এর মধ্যেই তার সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই (KPI) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।

সেখানে कर्तव्यরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও করতে নিষেধ করলে মেজর আখতারুজ্জামান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া ট্রলিতে রাখা সাধারণ যাত্রীদের পবিত্র জমজমের পানির বোতল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন করেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের উগ্র আচরণের কারণে একটি স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় কেপিআই স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে, যা সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ও হুমকির অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin