ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা

দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানির আবেদন ভারতের ব্যবসায়ীদের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দুই বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার ইলিশপ্রেমীদের আগ্রহ পূরণে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে এই আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ভারতের ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ সফর করেছেন। তারা বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মতে, দুর্গাপূজার সময় দুই বাংলার মানুষের কাছে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকে। তাই তারা পূজার আগে সীমিত পরিসরে হলেও ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চেয়েছেন।

বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আবেদনটি ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হতো। পরবর্তীতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৯ সাল থেকে সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা করে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই স্বল্পমেয়াদি অনুমতি কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনে না। তারা স্থায়ীভাবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও অনুরোধ করা হয়েছে যেন এবার রপ্তানির অনুমতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে না রেখে আরও আগে দেওয়া হয় এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা জুড়ে না দেওয়া হয়। এছাড়া, অতীতে শিল্পের বাইরের ব্যক্তিদের অনুমতি দেওয়ার ফলে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতে এবার কেবল প্রকৃত ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারকদেরই অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৫০০ টন, ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন, ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টন, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন, ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন এবং সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে প্রতিটি বছরই অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, তারা এ বছর আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ আনার ব্যাপারে আশাবাদী এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৫৩আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১০

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানির আবেদন ভারতের ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার ইলিশপ্রেমীদের আগ্রহ পূরণে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে এই আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ভারতের ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ সফর করেছেন। তারা বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মতে, দুর্গাপূজার সময় দুই বাংলার মানুষের কাছে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকে। তাই তারা পূজার আগে সীমিত পরিসরে হলেও ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চেয়েছেন।

বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আবেদনটি ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হতো। পরবর্তীতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৯ সাল থেকে সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা করে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই স্বল্পমেয়াদি অনুমতি কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনে না। তারা স্থায়ীভাবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও অনুরোধ করা হয়েছে যেন এবার রপ্তানির অনুমতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে না রেখে আরও আগে দেওয়া হয় এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা জুড়ে না দেওয়া হয়। এছাড়া, অতীতে শিল্পের বাইরের ব্যক্তিদের অনুমতি দেওয়ার ফলে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতে এবার কেবল প্রকৃত ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারকদেরই অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৫০০ টন, ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন, ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টন, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন, ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন এবং সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে প্রতিটি বছরই অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, তারা এ বছর আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ আনার ব্যাপারে আশাবাদী এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৫৩আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১০

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh