চাঁদপুরের ঘাটে ইলিশের আমদানি বাড়ায় স্বস্তি, কমেছে দাম
- আপডেট সময় : ০৬:২২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে মাছটির দাম কিছুটা কমেছে। গত কয়েক দিন আগেও যে ইলিশের কেজি ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, তা এখন কমে আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ভরা মৌসুমে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়তে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততা। এই ঘাটের বিশেষত্ব হলো, জেলেরা নদী থেকে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ সরাসরি আড়তে নিয়ে আসেন এবং কোনো বরফ ছাড়াই তা বিক্রি করা হয়। কুমিল্লা থেকে আসা এক ক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, তাজা ও বরফ ছাড়া ইলিশ পাওয়ার আশায় তিনি এই ঘাটে এসেছেন। তিনি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ৪টি ইলিশ ৯ হাজার টাকায় কিনেছেন এবং সব মিলিয়ে বিভিন্ন সাইজের ১৮ হাজার টাকার ইলিশ সংগ্রহ করেছেন।
অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এই আড়তে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। জেলেরা তখন নদী থেকে খালি হাতে ফিরছিলেন। বহরিয়া এলাকার জেলে হান্নান গাজী জানান, জ্বালানি খরচ তুলতে না পারায় গত কয়েক সপ্তাহ তিনি নদীতে যাননি। তবে গত দুই দিন ধরে নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়ায় তিনি আবার জালে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হরিণা ঘাটের পাইকারি বিক্রেতা জসিম উদ্দিন সৈয়াল জানান, এক সপ্তাহ আগে বাজারে ইলিশের সরবরাহ অত্যন্ত কম ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং জেলেদের জালে বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি জানান, বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার brave ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আড়তের প্রবীণ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবং ভরা মৌসুম চলায় সামনের দিনগুলোতে আমদানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দাম আরও কমবে। চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এই ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়ায় নদীতে মাছের বিচরণ আরও বাড়বে এবং জেলেরাও পর্যাপ্ত মাছ পাবেন। তাই এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।


























