ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শামলিতে জিম থেকে বের হতেই গুলি, ২৫ সেকেন্ডে শেষ গায়কের জীবন ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৯১ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ নেপাল সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসের নতুন ঝুঁকি, উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের আগামী ৫ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমবে গরম আশুলিয়ায় পত্রিকার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল কনডম তৈরির কারখানায় অভিযান সেপ্টেম্বরে নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা? গোয়াইনঘাটে ২৬ কোটির মহাসড়ক নির্মাণে বাধা ৯০ গাছ

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ২২ বছর পর বিচারের নতুন সমীকরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আজ ২২ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ওই নারকীয় হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে মামলাগুলোর নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন এবং হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলার মোট আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। তবে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে সবাইকে খালাস দেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে জানান যে, বিচারিক আদালতের রায়টি দুর্বল ও শোনা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পুনঃতদন্তের আদেশ ও সম্পূরক অভিযোগপত্রের আইনগত বৈধতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত বিচারে রায়ের ওই অংশটি বাদ দেয়। এই প্রেক্ষাপটে গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পরও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবার প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ২২ বছর পর বিচারের নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আজ ২২ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ওই নারকীয় হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে মামলাগুলোর নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন এবং হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে মামলার মোট আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। তবে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে সবাইকে খালাস দেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে জানান যে, বিচারিক আদালতের রায়টি দুর্বল ও শোনা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পুনঃতদন্তের আদেশ ও সম্পূরক অভিযোগপত্রের আইনগত বৈধতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত বিচারে রায়ের ওই অংশটি বাদ দেয়। এই প্রেক্ষাপটে গ্রেনেড হামলার ২২ বছর পরও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবার প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din