ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নাটকীয় মোড়: কূটনৈতিক বিবৃতির নেপথ্যে নতুন বার্তা

- আপডেট সময় : ১২:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে সম্প্রতি একটি বিশেষ বিবৃতির মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুদেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা ও হিমশীতল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এই বিবৃতির মাধ্যমে নতুন মোড় নিয়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক কৌশল শুরুর দিকে ঢাকাকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করলেও, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কোনো অবস্থাতেই সরকারি মদতে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না। ভারত দাবি করেছিল, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাব একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান এবং এতে তাদের হাত নেই। কিন্তু বাস্তবে সংবাদ সম্মেলনটি ভারতীয় সাংবাদিকদের আধিপত্যে পরিচালিত হওয়ায় ঢাকার অসন্তোষ আরও বাড়ে। এমনকি বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল এবং হাসিনাপুত্র জয়ের অংশগ্রহণও ছিল সেখানে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়ে একটি রাজনৈতিক কূটনৈতিক বিবৃতি প্রচারের সিদ্ধান্ত নেন।
বিবৃতিতে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপনের দিনে ভারতীয় ভূখণ্ডে এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং শহীদদের প্রতি চরম অপমান। বাংলাদেশ কখনোই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া চক্রের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই। ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধে ভারতের সাড়া না দেয়ায় বাংলাদেশ হতাশা প্রকাশ করে এবং একে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করে।
এই বিবৃতি প্রকাশের পর দিল্লিতে কূটনৈতিক পর্যায়ে নড়চড় শুরু হয় এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক বৈঠকের খবর পাওয়া যায়। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে বাংলাদেশের আপত্তির বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল এবং তিনি পরিস্থিতির প্রতি সম্মান দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন বার্তা এসেছে ঢাকায়। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিশেষ পত্র নিয়ে শীঘ্রই ঢাকা আসছেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আমন্ত্রণও থাকতে পারে, যদিও তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যাচ্ছেন না বলে প্রায় নিশ্চিত।
এদিকে আগামী ১০ই আগস্ট ঢাকায় অবস্থানরত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ঢাকায় আসার পর এটিই হবে তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। এছাড়া জুলাই বিপ্লবের অনুষ্ঠান বয়কট ও বক্তৃতার ভাষা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে, যেখানে বিদেশি কূটনীতিকরা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছিলেন।

























