নাটোরে বিমানমন্ত্রীর পথসভাস্থল থেকে পিস্তলসহ যুবক আটক
- আপডেট সময় : ১২:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের উত্তরা গণভবনের সামনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পথসভা চলাকালে পিস্তলসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম শামস আল আমিন তামিম (২৯)। তিনি নাটোরের প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সার ব্যবসায়ী শামসুল আলমের ছেলে। তামিম বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা গণভবনের সামনে বিমানমন্ত্রীর এই পথসভা চলছিল। ওই সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুুলু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ চলাকালে খয়েরি রঙের পোশাক পরিহিত তামিমকে একটি পিস্তলসহ আটক করা হয়। তিনি নাটোর পৌরসভার কানাইখালী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন এবং বাবার সার ডিলারশিপের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। সমাবেশের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আলম জানান, মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে সংলগ্ন একটি অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তামিম মঞ্চের একদম কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। বক্তব্য শেষ করে মন্ত্রী যখন মঞ্চ থেকে নামছিলেন, তখন ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর দুইবার ধাক্কা লাগে। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে একপাশে সরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার পকেট থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় এবং তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটকের পর তামিম দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি তার প্রয়াত বাবার নামে লাইসেন্স করা। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সেটি সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে পুলিশের অন্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তামিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোনো আসল পিস্তল নয়। এটি দেখতে ও ওজনে আসল পিস্তলের মতো হলেও মূলত অনলাইন শপ ‘দারাজ’ থেকে কেনা একটি খেলনা পিস্তল।
এই বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইফতে খায়ের আলম জানান, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি খেলনা পিস্তল হলেও, সেটি নিয়ে কেন তিনি মন্ত্রীর জনসভায় গিয়েছিলেন এবং সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



























