ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন পেল বিকাশসহ চার প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুলের ৫ দিনের রিমান্ড ক্লপ ও জাভির নতুন শুরুর ম্যাচে ড্র জার্মানি-নেদারল্যান্ডসের ছাতকে ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ ট্রাম্প-শি বৈঠক: বিশ্বমঞ্চে দুই পরাশক্তির নতুন সমীকরণ ন্যাটো দেশে রাশিয়ার ‘সীমিত’ হামলার সতর্কতা ডেনমার্কের এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ, ঘুচল বাংলাদেশের ৪০ বছরের অপেক্ষা বয়স লুকিয়ে পর্দায় অভিনয় করবেন না দীপা খন্দকার হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে এনসিপি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ পল্টন থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করল ডিএসসিসি

৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নিহত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসাইন। তিনি জানান, নিহতের দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি গত মঙ্গলবার বিকেলের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোরকে নামতে দেখা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি কিশোরের মায়ের নামে নিবন্ধিত। ঘটনার পর নিহত মেহেদীর ভাই মুক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে গাড়ির চালক আকাশ মারককে আসামি করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। এ দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি গাড়িটির চালক আকাশ মারককে (৪৪) বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানিয়েছেন।

আইনজীবী আলমগীর হোসাইন দাবি করেছেন, আপসনামায় ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মামলাটি প্রত্যাহারে সহযোগিতার বিষয়টিও সমঝোতায় রয়েছে। তবে নিহত মেহেদীর ভাই মুক্তাদীর ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এই আপস নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলা আপসযোগ্য নয় এবং বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে লেনদেন হলেও আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নন। তিনি আরও বলেন, মামলার বিচার হবে তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, বাদী কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা এই ধরনের সমঝোতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। সালমা আলী বলেন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত, টাকার বিনিময়ে এভাবে ‘ডিল’ করা গ্রহণযোগ্য নয়। জিনাত আরা হক মন্তব্য করেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এ ধরনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে সংশোধনের রাস্তায় আনতে হবে, কোনোভাবেই অপরাধকে উৎসাহিত করা যাবে না। এটি যদি আদালত গ্রহণ করেন, তবে প্রমাণিত হবে যে টাকা দিয়ে সব কিছু করা সম্ভব, যা অপরাধকে উৎসাহিত করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা?

আপডেট সময় : ০২:২৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নিহত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসাইন। তিনি জানান, নিহতের দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি গত মঙ্গলবার বিকেলের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোরকে নামতে দেখা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি কিশোরের মায়ের নামে নিবন্ধিত। ঘটনার পর নিহত মেহেদীর ভাই মুক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে গাড়ির চালক আকাশ মারককে আসামি করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। এ দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি গাড়িটির চালক আকাশ মারককে (৪৪) বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানিয়েছেন।

আইনজীবী আলমগীর হোসাইন দাবি করেছেন, আপসনামায় ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মামলাটি প্রত্যাহারে সহযোগিতার বিষয়টিও সমঝোতায় রয়েছে। তবে নিহত মেহেদীর ভাই মুক্তাদীর ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এই আপস নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলা আপসযোগ্য নয় এবং বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে লেনদেন হলেও আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নন। তিনি আরও বলেন, মামলার বিচার হবে তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, বাদী কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা এই ধরনের সমঝোতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। সালমা আলী বলেন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত, টাকার বিনিময়ে এভাবে ‘ডিল’ করা গ্রহণযোগ্য নয়। জিনাত আরা হক মন্তব্য করেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এ ধরনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে সংশোধনের রাস্তায় আনতে হবে, কোনোভাবেই অপরাধকে উৎসাহিত করা যাবে না। এটি যদি আদালত গ্রহণ করেন, তবে প্রমাণিত হবে যে টাকা দিয়ে সব কিছু করা সম্ভব, যা অপরাধকে উৎসাহিত করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo