
রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নিহত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসাইন। তিনি জানান, নিহতের দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার বিকেলের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোরকে নামতে দেখা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি কিশোরের মায়ের নামে নিবন্ধিত। ঘটনার পর নিহত মেহেদীর ভাই মুক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে গাড়ির চালক আকাশ মারককে আসামি করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। এ দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি গাড়িটির চালক আকাশ মারককে (৪৪) বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানিয়েছেন।
আইনজীবী আলমগীর হোসাইন দাবি করেছেন, আপসনামায় ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মামলাটি প্রত্যাহারে সহযোগিতার বিষয়টিও সমঝোতায় রয়েছে। তবে নিহত মেহেদীর ভাই মুক্তাদীর ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এই আপস নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলা আপসযোগ্য নয় এবং বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে লেনদেন হলেও আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নন। তিনি আরও বলেন, মামলার বিচার হবে তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, বাদী কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা এই ধরনের সমঝোতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। সালমা আলী বলেন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত, টাকার বিনিময়ে এভাবে ‘ডিল’ করা গ্রহণযোগ্য নয়। জিনাত আরা হক মন্তব্য করেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। এ ধরনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে সংশোধনের রাস্তায় আনতে হবে, কোনোভাবেই অপরাধকে উৎসাহিত করা যাবে না। এটি যদি আদালত গ্রহণ করেন, তবে প্রমাণিত হবে যে টাকা দিয়ে সব কিছু করা সম্ভব, যা অপরাধকে উৎসাহিত করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২