সচিবালয়ে নজিরবিহীন চুরি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২ পিসির যন্ত্রাংশ গায়েব

- আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম সুরক্ষিত এলাকা ও প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে এক নজিরবিহীন চুরির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২২টি কম্পিউটার থেকে প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক ও প্রিন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এই চুরির শিকার হয়েছেন মন্ত্রণালয়ের চারজন যুগ্ম সচিব, তিনজন উপসচিব ও দুইজন সিনিয়র সহকারী সচিবসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার কক্ষের কম্পিউটার। সচিবালয়ের মতো কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত স্থানে এমন চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
গত ২৩শে জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানারে সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। পরে নিরীক্ষা বা অডিট করে জানা যায়, কম্পিউটারের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশগুলো উধাও হয়ে গেছে।
তদন্ত ও জিডির তথ্য অনুযায়ী, যেসব কর্মকর্তার কক্ষের কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—যুগ্ম সচিব খোদেজা খাতুন, যুগ্ম সচিব শারমিনা নাসরীন, যুগ্ম সচিব মো. আক্তার জামীল, যুগ্ম সচিব মোছা. রোখছানা বেগম, উপসচিব জান্নাতুল ফেরদৌস, উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস, উপসচিব নুসরাত জাহান, সিনিয়র সহকারী সচিব ফারহান লাবীব জিসান এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা চায়না আক্তার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবায়েত হোসাইন, আলীমুন্নেছা রেশমা ও মিঠুন তালুকদার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আতিকুল ইসলাম এবং স্বয়ং বিভাগের সভাকক্ষের কম্পিউটারের প্রসেসর ও র্যাম চুরি গেছে। এর মধ্যে যুগ্ম সচিব মো. আক্তার জামীলের পিসি থেকে প্রসেসর ও র্যামের পাশাপাশি হার্ডডিস্কও চুরি হয়েছে।
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের এই কক্ষগুলো খোলা এবং বন্ধ করার দায়িত্ব পালন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োজিত জনবল। ঘটনাটি উদঘাটনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইডেন বিল্ডিংয়ে নিয়োজিত অফিস সহায়ক মো. মাহবুব হোসেন অফিস সময় শেষ হওয়ার পর প্রায়ই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে ৫ থেকে ৮ মিনিট অবস্থান করছেন। গত ১৪ই জুনের সিসিটিভি রেকর্ডে তার অবস্থান করা কক্ষগুলোর অধিকাংশ পিসি থেকেই যন্ত্রাংশ গায়েব হয়েছে। বিশেষ করে সভাকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৪ই জুন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মাহবুব হোসেন সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানকার একটি পিসি কার্টন দিয়ে ঢেকে পাশের খাবার পরিবেশন কক্ষে নিয়ে যান। ছয় মিনিট পর, অর্থাৎ ৬টা ২১ মিনিটে তিনি আবারও কার্টন দিয়ে ঢেকে পিসিটি যথাস্থানে রেখে আসেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে ওই পিসির ভেতরে প্রসেসর ও র্যাম পাওয়া যায়নি।
এই চুরির ঘটনার পর গত ২৩শে জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে একটি অফিশিয়াল চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া অভিযুক্ত কর্মচারী মো. মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শহিদুর রহমান জানান, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে তিনি বদলি হওয়ায় বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই মো. রোকনুজ্জামান। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, চুরির এই ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।























