ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার জেরে কমেছে তেলের দাম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সময় ৪ অভিবাসীর মৃত্যু ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ চাঁদ জয়ের নতুন লড়াই: মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাইয়ের ২৯ দিনে ২৭১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পেল বাংলাদেশ লন্ডনে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম চীন-ভারত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের ইঙ্গিত নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী নগর উন্নয়ন ও ইমারত আইন পর্যালোচনায় ৩ মন্ত্রীকে নিয়ে কমিটি

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে উপজেলা সদর দপ্তরের অবকাঠামো নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আদালত। বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ জুলাই এই আদেশ দেন।

আদালত প্রজ্ঞাপন দুটি কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন এবং ১৪ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন। বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিটকারী মাহবুবুর রহমান ফুরকান, যিনি দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাঁচুলি গ্রামের বাসিন্দা, এই রিট মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের রুল জারির পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কোনো প্রকার নিরপেক্ষ মাঠপর্যায়ের তদন্ত ছাড়াই সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হয়নি এবং দত্তের বাজার ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যমান পাগলা থানা সদর দপ্তরের নিকটবর্তী অবস্থানকে প্রশাসনিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভৌগোলিক কেন্দ্রিকতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং জনস্বার্থের মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালত মনে করছেন।

গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২৩তম সভায় ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ জুলাই এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। এই নতুন উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা হলো—মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, পাইথল, মশাখালী, লংগাইর, নিগুয়ারী ও দত্তেরবাজার। নতুন উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৩৮টি পদ এবং ২৪টি সরকারি অফিসের সেট-আপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ইচ্ছায় পাগলা থানা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে তার বাড়ির পাশে সদর দপ্তর স্থানান্তরের চেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয়রা নিয়মিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মিজানুল হক চৌধুরী, হাসান মোহাম্মদ রিয়াদ ও মো. হাবিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিশান হায়দার, মো. আসিফ ইমরান (জিসান) ও রুহুল আমিন সিকদার। বুধবার (২৯ জুলাই) আদেশের কপি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মিজানুল হক চৌধুরী।

গেজেটে আরও বলা হয়, নতুন উপজেলার সদর দফতর স্থাপিত হবে উস্থি ইউনিয়নের আওতাধীন ১৪৩ নম্বর জে.এল.ভুক্ত নয়াবাড়ী মৌজায়। উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের অফ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন উপজেলায় মোট ২৪টি সরকারি অফিসের জন্য ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তা পদ ৪০টি এবং কর্মচারী পদ ১৯৮টি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

আপডেট সময় : ০৯:০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
print news

নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে উপজেলা সদর দপ্তরের অবকাঠামো নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আদালত। বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ জুলাই এই আদেশ দেন।

আদালত প্রজ্ঞাপন দুটি কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন এবং ১৪ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন। বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিটকারী মাহবুবুর রহমান ফুরকান, যিনি দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাঁচুলি গ্রামের বাসিন্দা, এই রিট মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের রুল জারির পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কোনো প্রকার নিরপেক্ষ মাঠপর্যায়ের তদন্ত ছাড়াই সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হয়নি এবং দত্তের বাজার ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যমান পাগলা থানা সদর দপ্তরের নিকটবর্তী অবস্থানকে প্রশাসনিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভৌগোলিক কেন্দ্রিকতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং জনস্বার্থের মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালত মনে করছেন।

গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২৩তম সভায় ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ জুলাই এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। এই নতুন উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা হলো—মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, পাইথল, মশাখালী, লংগাইর, নিগুয়ারী ও দত্তেরবাজার। নতুন উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৩৮টি পদ এবং ২৪টি সরকারি অফিসের সেট-আপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ইচ্ছায় পাগলা থানা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে তার বাড়ির পাশে সদর দপ্তর স্থানান্তরের চেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয়রা নিয়মিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মিজানুল হক চৌধুরী, হাসান মোহাম্মদ রিয়াদ ও মো. হাবিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিশান হায়দার, মো. আসিফ ইমরান (জিসান) ও রুহুল আমিন সিকদার। বুধবার (২৯ জুলাই) আদেশের কপি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মিজানুল হক চৌধুরী।

গেজেটে আরও বলা হয়, নতুন উপজেলার সদর দফতর স্থাপিত হবে উস্থি ইউনিয়নের আওতাধীন ১৪৩ নম্বর জে.এল.ভুক্ত নয়াবাড়ী মৌজায়। উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের অফ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন উপজেলায় মোট ২৪টি সরকারি অফিসের জন্য ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তা পদ ৪০টি এবং কর্মচারী পদ ১৯৮টি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin