লিবিয়ায় মুক্তিপণ না পেয়ে মাদারীপুরের যুবক সোহাগকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে রাখা মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের সোহাগ মুন্সীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সোহাগ ওই গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে। মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মানবপাচারকারী চক্র তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে।
পরিবার ও স্বজনদের তথ্যানুযায়ী, সোহাগ ইতালি যাওয়ার আশায় স্থানীয় দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২২ লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে তাকে সৌদি আরব এবং পরে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিয়ে বন্দি করা হয়। সেখানে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় পাচারকারীরা। এরপর তাকে ফেরত পাঠানোর কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়া হলেও গত ২৩ জুলাই তারা নতুন করে ২৭ লাখ টাকা দাবি করে। ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে সেই টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুধবার এই মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বর্তমানে ওই মানবপাচারকারী চক্রের হাতে আরও ১১ জন যুবক জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সোহাগের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, ঘটনার পর বুধবার রাতে সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে মূল হোতারা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।



























