ঢামেক সাজছে নতুন রূপে, ১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

- আপডেট সময় : ০২:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এক নতুন ও আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনগুলো ভেঙে সেখানে গড়ে তোলা হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই এক আধুনিক ক্যাম্পাস। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ’ নামের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।
প্রকল্পের অধীনে ঢামেক ক্যাম্পাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বেশ কিছু বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টার, ৮০০ আসনের ১৫ তলার একটি শিক্ষার্থী হোস্টেল এবং ১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবন। এছাড়া ৪টি লেকচার থিয়েটার, ২টি পরীক্ষা কক্ষ, ১টি সার্ভিস ভবন এবং ৮০০ মুসল্লি ধারণক্ষমতার একটি ৪ তলা মসজিদ নির্মাণ করা হবে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ওয়াকওয়ে ও বাউন্ডারি ওয়ালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও এই প্রকল্পের আওতায় নতুন করে তৈরি করা হবে।
নতুন এই আধুনিক ক্যাম্পাসে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এখানে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুবিধা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি সাশ্রয়ী স্যানিটেশন ব্যবস্থা। অগ্নিনির্বাপণের জন্য থাকবে ফায়ার হাইড্রেন্ট। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আলোকসজ্জা ও অত্যাধুনিক লিফট সংযোজন করা হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাসগুলো বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটও দিন দিন তীব্র হচ্ছে। মূলত এই আবাসন সংকট দূর করতে এবং চিকিৎসা শিক্ষার মান বাড়াতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধীনে প্রায় ৬০টি ভবন রয়েছে। হাসপাতালটিতে ২ হাজার ৬০০ শয্যা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া এখানে এমবিবিএস ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
প্রকল্পটির বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম জানান, এটি বাস্তবায়িত হলে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বদলে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এর ফলে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান অনেকখানি বৃদ্ধি পাবে।


























