ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনার নিয়ম সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি পাগলা নদীর সেতু, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা সৌদির পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছে, ১১ জেলায় বন্যার সতর্কবার্তা তীব্র আপত্তিতে ভেস্তে গেল সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির খরচ কমানোর উদ্যোগ ম্যানিলায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন ম্যাক অ্যালিস্টার নিট প্রশ্নফাঁস: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলছে সিজেপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখনের উদ্যোগ ঢাবি প্রশাসনের মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সের বার্তা

নতুন প্রকল্পে পুরোনো কর্মীরা ৭ মাস বেতনহীন, নিয়োগ পেয়েছেন লাখ টাকার পরামর্শক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নিয়োজিত শতাধিক কর্মী দীর্ঘ সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। অথচ একই নতুন প্রকল্পে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা বেতনে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ প্রকল্পে কাজ করা কর্মীরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

বেতন না পেয়ে এবং চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় নির্যাতিত নারী ও শিশুদের চিকিৎসা এবং আইনি সেবা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, গত দুই বছর ধরেই তাঁদের বেতন নিয়মিত ছিল না, আর বিগত সাত মাস ধরে তাঁরা সম্পূর্ণ বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি গত ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একই আদলে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিকার ও প্রতিরোধে সমন্বিত সেবা জোরদারকরণ ও কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম (কিউআরটি)’ নামের নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়। তবে নতুন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানার পর থেকেই পুরোনো কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাকরি হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁরা সরাসরি নতুন প্রকল্পে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, পরিবার নিয়ে তাঁরা চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার—কোনো আমলেই তাঁদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার ও ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ডানিডা) যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সালের জুলাই মাসে পুরোনো প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের মোট জনবল ছিল ৩৮১ জন, যার মধ্যে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন ২৬২ জন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের চতুর্থ পর্ব ২০২৪ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এর মধ্যে ২০২২ সালের জুনে ডানিডা প্রকল্প থেকে সরে গেলে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সরকার এটিকে ‘এ’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডে নামিয়ে আনে। এরপর দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কর্মীদের বেতন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এই প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে ১৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, জেলা ও উপজেলায় ৬৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, ৮টি আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, ৮টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাব এবং জাতীয় হেল্পলাইন ‘১০৯’ পরিচালিত হচ্ছে। গত ৫ মার্চ প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার হোসেনের সই করা একটি চিঠিতে নতুন প্রকল্পে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কর্মীদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ অব্যাহত থাকলেও তাঁদের বেতনের কোনো সুরাহা করা হয়নি।

নতুন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (ডিপিপি) রুবিনা গনি জানান, নতুন প্রকল্পের অর্থছাড় হলেও সেখানে নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের প্রকল্পের কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। পুরোনো বকেয়া কীভাবে পরিশোধ হবে, সে বিষয়েও তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নতুন প্রকল্পে জনবল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা কর্মীদের অসন্তোষের প্রধান কারণ। তবে পুরোনো কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে কর্মীদের আন্দোলনকেও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে, গত ২৮ এপ্রিল মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে নতুন প্রকল্পের দরপত্র নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এর আগে দুই দফা দরপত্র বাতিল হওয়ার পর এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বানের প্রচেষ্টা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন প্রকল্পে পুরোনো কর্মীরা ৭ মাস বেতনহীন, নিয়োগ পেয়েছেন লাখ টাকার পরামর্শক

আপডেট সময় : ০২:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নিয়োজিত শতাধিক কর্মী দীর্ঘ সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। অথচ একই নতুন প্রকল্পে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা বেতনে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ প্রকল্পে কাজ করা কর্মীরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

বেতন না পেয়ে এবং চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় নির্যাতিত নারী ও শিশুদের চিকিৎসা এবং আইনি সেবা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, গত দুই বছর ধরেই তাঁদের বেতন নিয়মিত ছিল না, আর বিগত সাত মাস ধরে তাঁরা সম্পূর্ণ বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি গত ২৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একই আদলে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিকার ও প্রতিরোধে সমন্বিত সেবা জোরদারকরণ ও কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম (কিউআরটি)’ নামের নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়। তবে নতুন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানার পর থেকেই পুরোনো কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাকরি হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁরা সরাসরি নতুন প্রকল্পে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, পরিবার নিয়ে তাঁরা চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার—কোনো আমলেই তাঁদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার ও ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ডানিডা) যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সালের জুলাই মাসে পুরোনো প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের মোট জনবল ছিল ৩৮১ জন, যার মধ্যে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন ২৬২ জন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের চতুর্থ পর্ব ২০২৪ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এর মধ্যে ২০২২ সালের জুনে ডানিডা প্রকল্প থেকে সরে গেলে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সরকার এটিকে ‘এ’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডে নামিয়ে আনে। এরপর দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কর্মীদের বেতন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এই প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে ১৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, জেলা ও উপজেলায় ৬৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, ৮টি আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, ৮টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাব এবং জাতীয় হেল্পলাইন ‘১০৯’ পরিচালিত হচ্ছে। গত ৫ মার্চ প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার হোসেনের সই করা একটি চিঠিতে নতুন প্রকল্পে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কর্মীদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ অব্যাহত থাকলেও তাঁদের বেতনের কোনো সুরাহা করা হয়নি।

নতুন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (ডিপিপি) রুবিনা গনি জানান, নতুন প্রকল্পের অর্থছাড় হলেও সেখানে নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের প্রকল্পের কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। পুরোনো বকেয়া কীভাবে পরিশোধ হবে, সে বিষয়েও তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নতুন প্রকল্পে জনবল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা কর্মীদের অসন্তোষের প্রধান কারণ। তবে পুরোনো কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে কর্মীদের আন্দোলনকেও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে, গত ২৮ এপ্রিল মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে নতুন প্রকল্পের দরপত্র নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এর আগে দুই দফা দরপত্র বাতিল হওয়ার পর এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বানের প্রচেষ্টা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo