ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনার নিয়ম সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় : ০৪:০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নীতিমালায় বড় ধরনের শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা, তা সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে জটিলতা অনেকটাই কেটে যাবে। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে প্রচলিত রপ্তানি নথিপত্রের আর প্রয়োজন হবে না। ফ্রিল্যান্সাররা এখন থেকে তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা যেকোনো ডিজিটাল যোগাযোগকেই আয়ের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কর্মরত ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সেবা রপ্তানিকারকদের অর্থ দেশে আনার প্রচলিত জটিলতা দূর হবে।
লেনদেনের সীমাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক আয় সরাসরি গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার বা ওপিজিএসপির মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ দেশে আনা যাবে, তবে এই অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করবে।
বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে আইটি বহির্ভূত অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এই সংরক্ষিত অর্থ দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন ফি, সফটওয়্যার কেনা, ক্লাউড সেবা গ্রহণ কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক খরচ মেটাতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক উদ্যোগের ফলে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে। এতে সেবা রপ্তানি খাতের স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।




























