মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: জ্বালানি সংকট এড়াতে ১৬ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার
- আপডেট সময় : ০২:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক বৈঠকে রেকর্ড প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জোড়া বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভায় ১৫.৮০ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ায় ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির নৌপথের নিরাপত্তার চরম হুমকির মুখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপি) ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ওমানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভার্জেন্স টেকনোলজিস এলএলসি’ থেকে এই ডিজেল কেনা হচ্ছে, যেখানে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ৪০.৭৯ মিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।
একই দিনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় খাদ্য নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে আরও ৮টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন ও বিএডিসির চুক্তির আওতায় ৪০,০০০ টন এমওপি সার আমদানি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১০ হাজার টন মসুর ডাল ও এক কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল ক্রয়। বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে নোয়াখালীর ভাসানচরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ কোটি ৬০ লাখ পিস বস্তা ক্রয়ের প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন নির্ধারণের নীতিগত অনুমোদন চেয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিএসসি) পূর্বনির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীরা তেল সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েছে বিপিএসসি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরাসরি কেনাকাটার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ, পরিবহণ ও কৃষি খাতের উৎপাদন সচল রাখতেই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

























