মেয়ের পাঠানো ‘লাইভ লোকেশন’ দেখে এসে লাশ পেলেন বাবা
- আপডেট সময় : ১২:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়া এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ওই কিশোরীর (১৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোরী কুমিল্লা শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায় হলেও পরিবারটি কুমিল্লা শহরে বসবাস করে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ওই ছাত্রী আর বিদ্যালয়ে যায়নি।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা শহরের বাসা থেকে বের হয়েছিল ওই কিশোরী। এরপর বিভিন্ন সময় পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। তবে পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে কক্সবাজারে গিয়েছিল। গত বুধবার বিকেলে সে পরিবারকে জানায় যে রাতে কুমিল্লায় ফিরবে। কক্সবাজার থেকে বাসে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে।
কিশোরীর বাবা জানান, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে তাঁর মেয়ে ফোনে একটি খুদে বার্তা ও নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিল। তিনি বলেন, 'তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।'
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে খোঁজখবর শুরু করেন। একপর্যায়ে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে তারা ওই কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বণিক বলেন, মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। মেয়েটির গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল এবং মুখে মাটি লেগে ছিল।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় জানা ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পদুয়ার বাজারে বাস থেকে নামার পর ওই কিশোরী কীভাবে লালমাইয়ের ঘটনাস্থলে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশে পাওয়া পরিত্যক্ত অটোরিকশাটিকে কেন্দ্র করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। অটোরিকশাটির ভেতরে কিছু পোশাক ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো ওই কিশোরীর কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা। মামলা দায়েরের পর মেয়ের মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ক্ষোভ প্রকাশ করে কিশোরীর বাবা বলেন, 'আমার মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছে, কারা তাকে হত্যা করেছে, পুরো ঘটনা জানতে চাই। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানাই।'


























