ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবরারের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে প্রসূতির কোল থেকে নবজাতক চুরি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও ‘নিজস্ব প্রশাসন’ নিয়ে রাজউককে সংসদীয় কমিটির প্রশ্ন আবাসিক এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধে সংসদীয় কমিটির কড়া নির্দেশনা জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন রায়হান আহমেদ তামীম রমজানে নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ, ডিসেম্বরের আগেই সইয়ের আশা

গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ, ডিসেম্বরের আগেই সইয়ের আশা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এবারের চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে বাংলাদেশ মূল অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিস। মন্ত্রী জানান, নতুন চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গঙ্গা চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। তবে ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি নবায়ন করা হয়, যার মেয়াদ আগামী বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করতে দুই দেশ কাজ করছে।

একই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। আলোচনার সুবিধার্থে ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগির ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পানিবণ্টনে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা চায় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন। নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব থাকলে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব।

সেমিনারে পানিসম্পদমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই দুটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের এক- can-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন। একনেকে অনুমোদিত পদ্মা ব্যারাজের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো সময়ে দৃশ্যমান হবে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পের সমীক্ষা চললেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এটি একটি খরস্রোতা নদী এবং ভারতের উজানের পানির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ লড়াই করছে। এই প্রকল্পের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞসহ দেশি-বিদেশি কারিগরি সহায়তায় শিগগিরই ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করে সে বছরই মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পদ্মা ও তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চাপ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ, ডিসেম্বরের আগেই সইয়ের আশা

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এবারের চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে বাংলাদেশ মূল অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিস। মন্ত্রী জানান, নতুন চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গঙ্গা চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। তবে ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি নবায়ন করা হয়, যার মেয়াদ আগামী বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করতে দুই দেশ কাজ করছে।

একই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। আলোচনার সুবিধার্থে ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগির ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পানিবণ্টনে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা চায় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন। নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব থাকলে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব।

সেমিনারে পানিসম্পদমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই দুটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের এক- can-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন। একনেকে অনুমোদিত পদ্মা ব্যারাজের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো সময়ে দৃশ্যমান হবে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পের সমীক্ষা চললেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, যা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এটি একটি খরস্রোতা নদী এবং ভারতের উজানের পানির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ লড়াই করছে। এই প্রকল্পের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞসহ দেশি-বিদেশি কারিগরি সহায়তায় শিগগিরই ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করে সে বছরই মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পদ্মা ও তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চাপ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo