ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের উদ্যোগ পোশাককর্মী সায়মন হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ধানমন্ডি লেক পুনঃখনন শুরু করল ডিএসসিসি সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন: দুই পুলিশ ও বোনের চার দিনের রিমান্ড নিরাপত্তা হুমকিতে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফতুল্লায় উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান আখাউড়ায় মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে প্রার্থী সাংবাদিক কাজী হান্নান স্বপ্ন সুপার শপে সিনিয়র নেগোশিয়েটর পদে নিয়োগ, বেতন ৮০ হাজার

আয়ের সিংহভাগই চলে যায় বাড়িভাড়ায়, ঢাকায় সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানী ঢাকায় সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়িভাড়া। আয়ের একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে বাসার পেছনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে বাস্তবে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এই বৃদ্ধির হার আরও অনেক বেশি।

বেসরকারি চাকরিজীবী শাহাদাত হোসেনের কথাই ধরা যাক। তাঁর মোট বেতন ৩৯ হাজার টাকা। সম্প্রতি বিয়ে করার পর মোহাম্মদপুর বা এর আশপাশের আদাবর ও শেখেরটেক এলাকায় দুই কক্ষের একটি বাসা খুঁজছেন তিনি। কিন্তু ১৮ হাজার টাকার নিচে কোনো বাসা মেলা ভার। এর সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল ও সার্ভিস চার্জ যোগ করলে খরচ দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকার বেশি। শাহাদাত বলেন, বেতনের অর্ধেকই যদি বাড়িভাড়ায় চলে যায়, তবে এই দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব। বাধ্য হয়ে তিনি এখন অফিস থেকে দূরে কম ভাড়ার বাসা খোঁজার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে যাতায়াতে কষ্ট হলেও কিছু টাকা সাশ্রয় হয়।

ঢাকার পূর্ব গোড়ানের বাসিন্দা ফোজায়েল আহমেদের অভিজ্ঞতাও একই রকম। চার বছর আগে তিনি তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন, যা তিন দফায় বেড়ে এখন ২৭ হাজার টাকায় ঠেকেছে। অর্থাৎ চার বছরে তাঁর ভাড়া বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টাস ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহত্তর ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছেন, যা ঢাকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল নগরে পরিণত করেছে। এই বিশাল জনসংখ্যার বড় অংশই ভাড়া বাসায় থাকেন।

ভাড়াটেদের সুরক্ষায় সরকার ১৯৯১ সালে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন করলেও তা মূলত অকার্যকর হয়ে আছে, কারণ আজ পর্যন্ত এর কোনো বিধিমালা তৈরি করা হয়নি। এমন এক পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, ঢাকায় চাহিদার তুলনায় বাসার সংকট থাকায় ভাড়া বেশি। বাড়িওয়ালাদের ভাড়া বাড়ানোর পেছনে অনেক সময় যৌক্তিক কারণ থাকলেও তা আসলেই যৌক্তিক কি না বা ভাড়াটেদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে কি না, তা তদারকি করার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই জটিলতা দূর করতে দ্রুত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

বিবিএস প্রতি তিন মাস পর পর বাড়িভাড়া সূচক প্রকাশ করে। তাদের হিসাবে, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত জাতীয়ভাবে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে এলাকাভেদে এই হার অনেক বেশি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা যেমন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শেখেরটেক, মগবাজার, ইস্কাটন, পরীবাগ, বনশ্রী, যাত্রাবাড়ী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তিন কক্ষের ফ্ল্যাটের ভাড়া ১৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ হয় ৩ থেকে ৭ হাজার টাকার সার্ভিস চার্জ। অবশ্য মূল সড়ক থেকে দূরে বছিলার মতো এলাকায় দুই কক্ষের বাসা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আহসান হাবিব গত পাঁচ বছর ধরে একই বাসায় আছেন। এর মধ্যে দুবার ভাড়া বাড়ার পর আগামী জানুয়ারি থেকে আরও এক হাজার টাকা বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছেন বাড়িওয়ালা। ভাড়াটেদের বড় অভিযোগ হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তি থাকে না। ফলে মৌখিকভাবে যখন-তখন ভাড়া বাড়ানোর চাপ দেওয়া হয়।

বিবিএসের ২০২২ সালের খানার আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং গড় ব্যয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যয়ের ৪২ শতাংশই চলে যায় খাবারের পেছনে, আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয় বাড়িভাড়া ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জীবিকার তাগিদেই মানুষ ঢাকায় ভিড় করেন। ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করা গেলে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে অফিস করতে পারতেন, যা রাজধানীর ওপর আবাসন চাপ এবং বাড়িভাড়া দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আয়ের সিংহভাগই চলে যায় বাড়িভাড়ায়, ঢাকায় সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস

আপডেট সময় : ০১:১৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়িভাড়া। আয়ের একটি বড় অংশই চলে যাচ্ছে বাসার পেছনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে বাস্তবে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এই বৃদ্ধির হার আরও অনেক বেশি।

বেসরকারি চাকরিজীবী শাহাদাত হোসেনের কথাই ধরা যাক। তাঁর মোট বেতন ৩৯ হাজার টাকা। সম্প্রতি বিয়ে করার পর মোহাম্মদপুর বা এর আশপাশের আদাবর ও শেখেরটেক এলাকায় দুই কক্ষের একটি বাসা খুঁজছেন তিনি। কিন্তু ১৮ হাজার টাকার নিচে কোনো বাসা মেলা ভার। এর সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল ও সার্ভিস চার্জ যোগ করলে খরচ দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকার বেশি। শাহাদাত বলেন, বেতনের অর্ধেকই যদি বাড়িভাড়ায় চলে যায়, তবে এই দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব। বাধ্য হয়ে তিনি এখন অফিস থেকে দূরে কম ভাড়ার বাসা খোঁজার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে যাতায়াতে কষ্ট হলেও কিছু টাকা সাশ্রয় হয়।

ঢাকার পূর্ব গোড়ানের বাসিন্দা ফোজায়েল আহমেদের অভিজ্ঞতাও একই রকম। চার বছর আগে তিনি তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন, যা তিন দফায় বেড়ে এখন ২৭ হাজার টাকায় ঠেকেছে। অর্থাৎ চার বছরে তাঁর ভাড়া বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টাস ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহত্তর ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছেন, যা ঢাকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল নগরে পরিণত করেছে। এই বিশাল জনসংখ্যার বড় অংশই ভাড়া বাসায় থাকেন।

ভাড়াটেদের সুরক্ষায় সরকার ১৯৯১ সালে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন করলেও তা মূলত অকার্যকর হয়ে আছে, কারণ আজ পর্যন্ত এর কোনো বিধিমালা তৈরি করা হয়নি। এমন এক পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, ঢাকায় চাহিদার তুলনায় বাসার সংকট থাকায় ভাড়া বেশি। বাড়িওয়ালাদের ভাড়া বাড়ানোর পেছনে অনেক সময় যৌক্তিক কারণ থাকলেও তা আসলেই যৌক্তিক কি না বা ভাড়াটেদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে কি না, তা তদারকি করার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই জটিলতা দূর করতে দ্রুত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

বিবিএস প্রতি তিন মাস পর পর বাড়িভাড়া সূচক প্রকাশ করে। তাদের হিসাবে, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত জাতীয়ভাবে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে এলাকাভেদে এই হার অনেক বেশি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা যেমন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শেখেরটেক, মগবাজার, ইস্কাটন, পরীবাগ, বনশ্রী, যাত্রাবাড়ী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তিন কক্ষের ফ্ল্যাটের ভাড়া ১৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ হয় ৩ থেকে ৭ হাজার টাকার সার্ভিস চার্জ। অবশ্য মূল সড়ক থেকে দূরে বছিলার মতো এলাকায় দুই কক্ষের বাসা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আহসান হাবিব গত পাঁচ বছর ধরে একই বাসায় আছেন। এর মধ্যে দুবার ভাড়া বাড়ার পর আগামী জানুয়ারি থেকে আরও এক হাজার টাকা বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছেন বাড়িওয়ালা। ভাড়াটেদের বড় অভিযোগ হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তি থাকে না। ফলে মৌখিকভাবে যখন-তখন ভাড়া বাড়ানোর চাপ দেওয়া হয়।

বিবিএসের ২০২২ সালের খানার আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং গড় ব্যয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যয়ের ৪২ শতাংশই চলে যায় খাবারের পেছনে, আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয় বাড়িভাড়া ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জীবিকার তাগিদেই মানুষ ঢাকায় ভিড় করেন। ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করা গেলে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে অফিস করতে পারতেন, যা রাজধানীর ওপর আবাসন চাপ এবং বাড়িভাড়া দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo