পাবনায় সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি নেতা সুমন কারাগারে
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সাউথইস্ট ব্যাংকের সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন পাবনার একটি আদালত। রোববার পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক শাহিন কবির শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাউথইস্ট ব্যাংকের ঈশ্বরদী শাখা থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ঋণ পরিশোধ না করে তিনি সপরিবার আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সুমনের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগে সাউথইস্ট ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার সুমনকে আদালতে হাজির করে স্থায়ী জামিনের আবেদন জানানো হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন। এরপর কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ।
এদিকে, ব্যাংক ঋণের এই মামলা ছাড়াও গত ৬ আগস্ট পাবনার প্রথম যুগ্ম দায়রা জজ আদালত সুমনের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলায় রায় ঘোষণা করেন। ঈশ্বরদীর ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান টিপুর দায়ের করা ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় সুমনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
এসব মামলা ও দণ্ডাদেশ থাকার পরও গত ১৬ আগস্ট সুমনকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে দলীয় পদে বসিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, যা দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার জানান, আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সুমনের আর নেতৃত্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই।





























