মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংস্কার চলছে, প্রয়োজন চিকিৎসা সরঞ্জাম
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সংস্কার ও মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ভবনটিতে নতুন দরজা-জানালা বসানোর পাশাপাশি রঙের কাজ চলছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাব ও কক্ষগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোদমে আগের মতো স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে আরও সময় লাগবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করে এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে দেয়াল ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। হামলার পর থেকে মূল ভবনের বাইরে টিনের ছাউনিতে শিশুদের টিকা, নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শের মতো সীমিত সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফটকের ভেতরের টিনের ছাউনির নিচে চেয়ার-টেবিল পেতে সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মোট ৫৬ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ শিশুকে টিকা ও ২১ জন নারী স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। উল্লেখ্য, হামলার আগে কেন্দ্রটিতে দৈনিক গড়ে ৪০০ মানুষকে সেবা দেওয়া হতো।
সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে সামনের ও পেছনের ভাঙা দেয়াল মেরামত ও প্লাস্টার করা হয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে নতুন লোহার গ্রিল, দরজা ও জানালার কপাট বসানো হয়েছে। পানির ট্যাংক স্থাপন ও শৌচাগার মেরামতসহ সীমানাদেয়ালের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অর্থায়নে এই সংস্কারকাজ চলছে। আমিনুল হক জানান, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে কেন্দ্রটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। লুট হওয়া দুই ট্রাক পণ্য উদ্ধার হয়েছে যা পুলিশের জিম্মায় রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা হস্তান্তর করা হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ভবনের অবকাঠামোগত সংস্কার দ্রুত চললেও ভেতরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। লুট হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, কালার প্রিন্টার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, জেনারেটর, তিনটি এসি, অটোক্লেভ মেশিন, রোগীদের বিশেষ বিছানা এবং আসবাবপত্র রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামাল ব্যবহারযোগ্য কি না তা পরীক্ষা করে দেখার পর নতুন সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সেবা চালুর বিষয়ে রাড্ডা ট্রাস্টের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও টিকা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।

























