হেলমেট ছুড়ে ফেলা ও বিচারককে মন্তব্য: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শনিবার দুপুরে আখতারুজ্জামানকে প্রিজন ভ্যানে করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিজন ভ্যান থেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রের মিস ম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।" এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাঁকে নামাতে ভেতরে প্রবেশ করে হাত ধরলে আখতারুজ্জামান উচ্চস্বরে বলেন, "হাত ধরবেন না, সাবধান, ডোন্ট টাচ মি, যা বলবেন মুখে বলবেন।" এরপর ভ্যান থেকে বের হওয়ার সময় মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলে তিনি বলেন, "আমি আওয়ামী লীগের না।"
হেলমেট ছাড়াই আদালতে ওঠার সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। এ সময় বাইরে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালত ভবনের অষ্টম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে শুনানির সময় কোনো সাংবাদিককে এজলাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
আদালতের শুনানিতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে এসে শুরুতেই পুলিশ ও উপস্থিত সবাইকে বের করে দিতে বলেন। তিনি আদালত ও প্রসিকিউশনের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পিপি আরও দাবি করেন, শুনানি চলাকালে আখতারুজ্জামান বিচারককে হেয় করে বলেন যে, রায় দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। আদালত তাঁকে শান্ত হতে বললে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তিনি এভাবেই চলবেন এবং দেখে নেবেন কে কী করে। বিমানবন্দরে নিজের প্রতিবাদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি কথা বলেন, যার জবাবে আদালত তাঁকে প্রতিবাদের ভাষা সংযত রাখার পরামর্শ দেন।
তবে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক পিপির এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে অত্যন্ত সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন এবং আদালতকে কোনো প্রকার হেয় করেননি। উল্টো পিপি নিজেই তাঁকে হেয় করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা উল্লেখ করে তিনি একে জামিনযোগ্য মামলা বলে দাবি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন, যার বিপরীতে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করে। আদালত শেষ পর্যন্ত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নামানোর সময় আখতারুজ্জামানের মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ জোর করে তাঁকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি আরও বলেন, "রাষ্ট্রকে সঠিক পথে চালানোর জন্য, মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য, আমাদের নতুন করে সংগ্রামে নামতে হবে। ইনশা আল্লাহ জামায়াতে ইসলামী সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।"
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সম্প্রতি জামায়াতের সমালোচনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে অতীতে দেওয়া তাঁর কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে আখতারুজ্জামানকে প্রিজন ভ্যানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে নেওয়া হয়।
বাইরে তখন জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আখতারুজ্জামানকে লিফটে আদালত ভবনের ৮ তলায় নেওয়া হয়।





























