মাল্টার অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানিকারকদের এলসি খোলার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বাজারে মাল্টা ও খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম স্থিতিশীল রাখতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। সভায় ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোয় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান, আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ হিসাব করার পরও খুচরা বাজারে দাম কেন এত বেশি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা সভায় জানান, বাজারে মাল্টার সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কোনো কোনো সপ্তাহে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা আমদানি হচ্ছে। উচ্চ শুল্ক, পরিবহন জটিলতা, জাহাজ ও বন্দর সমস্যার পাশাপাশি আগের চালানে লোকসানের ঝুঁকি থাকায় অনেক ব্যবসায়ী আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এসব সমস্যার কথা শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর তাগিদ দেন।
আসন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খেজুরের শুল্ক-কর নিয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এছাড়া খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন, আবার রাজস্ব ফাঁকির সুযোগও না থাকে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে ফল আমদানির আশ্বাস দিয়েছেন এবং সরকার ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।



























