ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হাড়ের ক্ষয় ও দুর্বলতা এড়াতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ নেত্রকোনায় ফের দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির অভিযোগ, নেপথ্যে দালালচক্র ঢাকার গণপরিবহন ও যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে বেরোবির তৌফিকুল ইসলাম এসএ-টুয়েন্টির নিলামে দল পেলেন না নাহিদ রানা, বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি রিশাদ সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান রিজভীর স্পেনের আবাসন আন্দোলনের প্রতীক মারিকারমেনের প্রয়াণ সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বড় বিক্ষোভ লালপুরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে চিকিৎসকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানোয় ক্ষোভ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানো একটি ছবি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া জুতা ঝোলানোর দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করেছেন এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি জানার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালুজ্জামান লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতাটি নামিয়েছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর শামীম হোসেন নামের একজনকে সেখানে পাঠান এবং তিনি গিয়ে জুতাগুলো নামিয়ে আনেন। কামালুজ্জামান এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করে জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে তারা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং এরপরই আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই ঘটনাকে জঘন্য ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তারা জানান, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা পুরো দেশের গর্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস গড়েছেন। এর আগেও তার নামে নির্মিত স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে তারা বৈঠকে বসেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম স্থাপন করেছিলেন। নির্মাণ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাস্কর্যটি দুই দফায় ভাঙচুর করা হয়, যার মধ্যে জুলাই মাসে অপসারণের উদ্দেশ্যে চালানো ভাঙচুরের দায় কেউ নেয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানোয় ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানো একটি ছবি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া জুতা ঝোলানোর দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করেছেন এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি জানার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালুজ্জামান লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতাটি নামিয়েছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর শামীম হোসেন নামের একজনকে সেখানে পাঠান এবং তিনি গিয়ে জুতাগুলো নামিয়ে আনেন। কামালুজ্জামান এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করে জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে তারা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং এরপরই আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই ঘটনাকে জঘন্য ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তারা জানান, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা পুরো দেশের গর্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস গড়েছেন। এর আগেও তার নামে নির্মিত স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে তারা বৈঠকে বসেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম স্থাপন করেছিলেন। নির্মাণ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাস্কর্যটি দুই দফায় ভাঙচুর করা হয়, যার মধ্যে জুলাই মাসে অপসারণের উদ্দেশ্যে চালানো ভাঙচুরের দায় কেউ নেয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo