ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৬৫, মামলা ৭৩ কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ দেশে ২ কোটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, লক্ষ্য আরও ৩৫ লাখ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ভাঙ্গুড়ায় নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সিসিটিভিতে ধরা পড়ল প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর দৃশ্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ মনোযোগের রাশ কার হাতে, আপনার নাকি ফোনের স্ক্রিনের? যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর হবে সাবেক মেজরের মৃত্যুদণ্ড

বরিশালে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন সমাজসেবা কর্মকর্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৫৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত দেড় বছরের এক শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দিনমজুর বাসুদেব শীলের মেয়ে নন্দিতা জন্ম থেকেই এই জটিল রোগে ভুগছে। অর্থাভাবের কারণে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না তার বাবা-মা। এই অসহায় অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদ পারভেজ।

তিনি নন্দিতার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি একটি নেবুলাইজার মেশিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, শিশুটির দরিদ্র পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তারও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

বরিশাল সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এক গণশুনানিতে মা নীহারিকা রানীর সঙ্গে নন্দিতাও এসেছিল সাহায্যের আশায়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কীভাবে এককালীন অনুদানের জন্য আবেদন করতে হয়, তা জানা ছিল না নীহারিকা রানীর। বিষয়টি জানতে পেরে সাজ্জাদ পারভেজ তাঁকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় অনলাইন ফরম পূরণে নিজে সহযোগিতা করেন।

এর কয়েক দিন পর নন্দিতা প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হলে তার মা তাকে পুনরায় সমাজসেবা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি নেবুলাইজার মেশিন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে সাজ্জাদ পারভেজ নিজ উদ্যোগে নেবুলাইজার ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দেন।

নন্দিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুধু চিকিৎসাসহায়তাই নয়, খাদ্যসহায়তারও উদ্যোগ নেন এই কর্মকর্তা। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন ‘৮৪ ইভেন্ট’ নামক একটি সেবামূলক সংগঠনের সদস্যরাও।

সাজ্জাদ পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর উদ্যোগে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘৮৪ ইভেন্ট’ নামের এই অলাভজনক ও সেবামূলক সংগঠনটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মাত্র ৩২ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সংগঠনটি তাদের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সমাজসেবা কার্যালয়ে কাজ করার সুবাদে তিনি বিভিন্ন সময়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি আরও বলেন, অনেক অসহায় মানুষ জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ কেউ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করছেন। এসব মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন সমাজসেবা কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ১২:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৫৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত দেড় বছরের এক শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দিনমজুর বাসুদেব শীলের মেয়ে নন্দিতা জন্ম থেকেই এই জটিল রোগে ভুগছে। অর্থাভাবের কারণে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না তার বাবা-মা। এই অসহায় অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদ পারভেজ।

তিনি নন্দিতার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি একটি নেবুলাইজার মেশিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, শিশুটির দরিদ্র পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তারও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

বরিশাল সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এক গণশুনানিতে মা নীহারিকা রানীর সঙ্গে নন্দিতাও এসেছিল সাহায্যের আশায়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কীভাবে এককালীন অনুদানের জন্য আবেদন করতে হয়, তা জানা ছিল না নীহারিকা রানীর। বিষয়টি জানতে পেরে সাজ্জাদ পারভেজ তাঁকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় অনলাইন ফরম পূরণে নিজে সহযোগিতা করেন।

এর কয়েক দিন পর নন্দিতা প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হলে তার মা তাকে পুনরায় সমাজসেবা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি নেবুলাইজার মেশিন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে সাজ্জাদ পারভেজ নিজ উদ্যোগে নেবুলাইজার ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দেন।

নন্দিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুধু চিকিৎসাসহায়তাই নয়, খাদ্যসহায়তারও উদ্যোগ নেন এই কর্মকর্তা। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন ‘৮৪ ইভেন্ট’ নামক একটি সেবামূলক সংগঠনের সদস্যরাও।

সাজ্জাদ পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর উদ্যোগে এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘৮৪ ইভেন্ট’ নামের এই অলাভজনক ও সেবামূলক সংগঠনটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মাত্র ৩২ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে সংগঠনটি তাদের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সমাজসেবা কার্যালয়ে কাজ করার সুবাদে তিনি বিভিন্ন সময়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি আরও বলেন, অনেক অসহায় মানুষ জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ কেউ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করছেন। এসব মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh