ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির সুপারিশ কমিটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংসের কথা বলে তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আইডিআরএ’র বিশেষ উদ্যোগ বিকৃত ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ জাহ্নবী, নিলেন কড়া অবস্থান গণঅধিকারের সদস্য জসিমের পদ স্থগিত, কারণ দর্শানোর নোটিশ শ্রেয়াস আইয়ারের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত নেশনস লিগে ইভান বাশিচের পেনাল্টি গোলে পোল্যান্ডকে হারাল বসনিয়া আজ শেষ হচ্ছে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি নিশ্চায়ন কর অঞ্চল-৪ ঢাকায় ৪৯ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

দেবীগঞ্জে ১৪ শিক্ষক থাকতেও নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন অফিস সহকারী গোপাল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিককে দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের ক্লাস রুটিনে ওই অফিস সহকারীর নামে সপ্তাহে ১৩টি ক্লাস বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত রবিবার দুপুরে সোনাহার-মল্লিকাদাহ ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এ সময় অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়কে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নিতে দেখা যায়। শ্রেণিকক্ষে তখন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আরিফুল জানান, গোপাল চন্দ্র রায় দশম শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তবে ২০২৬ সালের ক্লাস রুটিনে প্রধান শিক্ষকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে ছয়টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আটটি ক্লাস নেন। সহকারী শিক্ষকদের প্রত্যেকের ভাগে রয়েছে ১২ থেকে ১৫টি করে ক্লাস। অন্যদিকে, অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়ের নামে সপ্তাহে ১৩টি ক্লাস বরাদ্দ রয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, রবিবার থেকে মঙ্গলবার পঞ্চম পিরিয়ডে ষষ্ঠ শ্রেণির ধর্ম এবং ষষ্ঠ পিরিয়ডে দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নেন তিনি। এছাড়া বুধ ও বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ পিরিয়ডে নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং সপ্তম পিরিয়ডে দশম শ্রেণির ধর্ম বিষয়ের ক্লাসও তাকে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন না। তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায়কে দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের সাধারণ বিজ্ঞান ক্লাস নিতে দেখা যায়। এছাড়া তিনজন সহকারী শিক্ষক শিক্ষক মিলনায়তনে বসে ছিলেন এবং অন্য শিক্ষকেরা বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন।

অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত থেকে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘২০২০ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস করাই। আমি মূলত ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণিতে ধর্ম এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নিই।’ বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক থাকার পরও ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, বছরের শুরু থেকেই হেড স্যারের দেওয়া রুটিন অনুযায়ী তিনি ক্লাস নিচ্ছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। হিন্দুধর্মের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় দুই-তিন মাস আগে অবসরে গেছেন, তার পরিবর্তে অফিস সহকারী ক্লাস নিচ্ছেন।’ অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার কোনো নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এর জন্য কোনো পরিপত্রের প্রয়োজন হয় না এবং বাকি শিক্ষকেরা অন্য ক্লাস নেন।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা জানান, অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে ১৪ শিক্ষক থাকতেও নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন অফিস সহকারী গোপাল

আপডেট সময় : ১১:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিককে দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের ক্লাস রুটিনে ওই অফিস সহকারীর নামে সপ্তাহে ১৩টি ক্লাস বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত রবিবার দুপুরে সোনাহার-মল্লিকাদাহ ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এ সময় অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়কে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নিতে দেখা যায়। শ্রেণিকক্ষে তখন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আরিফুল জানান, গোপাল চন্দ্র রায় দশম শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তবে ২০২৬ সালের ক্লাস রুটিনে প্রধান শিক্ষকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে ছয়টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আটটি ক্লাস নেন। সহকারী শিক্ষকদের প্রত্যেকের ভাগে রয়েছে ১২ থেকে ১৫টি করে ক্লাস। অন্যদিকে, অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র রায়ের নামে সপ্তাহে ১৩টি ক্লাস বরাদ্দ রয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, রবিবার থেকে মঙ্গলবার পঞ্চম পিরিয়ডে ষষ্ঠ শ্রেণির ধর্ম এবং ষষ্ঠ পিরিয়ডে দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নেন তিনি। এছাড়া বুধ ও বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ পিরিয়ডে নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং সপ্তম পিরিয়ডে দশম শ্রেণির ধর্ম বিষয়ের ক্লাসও তাকে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন না। তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায়কে দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের সাধারণ বিজ্ঞান ক্লাস নিতে দেখা যায়। এছাড়া তিনজন সহকারী শিক্ষক শিক্ষক মিলনায়তনে বসে ছিলেন এবং অন্য শিক্ষকেরা বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন।

অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত থেকে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘২০২০ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস করাই। আমি মূলত ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণিতে ধর্ম এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ক্লাস নিই।’ বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক থাকার পরও ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, বছরের শুরু থেকেই হেড স্যারের দেওয়া রুটিন অনুযায়ী তিনি ক্লাস নিচ্ছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। হিন্দুধর্মের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় দুই-তিন মাস আগে অবসরে গেছেন, তার পরিবর্তে অফিস সহকারী ক্লাস নিচ্ছেন।’ অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার কোনো নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এর জন্য কোনো পরিপত্রের প্রয়োজন হয় না এবং বাকি শিক্ষকেরা অন্য ক্লাস নেন।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা জানান, অফিস সহকারীকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh