ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

পাবনায় অস্ত্রোপচারের ক্ষত থেকে যক্ষ্মা সংক্রমণ, তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাবনার ফরিদপুর উপজেলা সদরের আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের পর অন্তত ১২ জন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই প্রসূতি নারী, যারা মে ও জুন মাসে সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেছিলেন। এছাড়া অন্য এক ব্যক্তির পিত্তথলি বা গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা ধরা পড়েছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ করে দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আক্রান্তদের একজন থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী জয়া রানী দাস। গত ২২ মে আল-মদিনা হাসপাতালে ভর্তির পর ওই দিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার সন্তানের জন্ম হয়। ২৪ মে তিনি বাড়ি ফিরে যান এবং ২৯ মে সেলাই কেটে ড্রেসিং করান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে চললেও দুই সপ্তাহ পরও তার পেটের ক্ষত শুকায়নি। ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ ও রস বের হতে থাকায় তিনি বারবার হাসপাতালে যান, কিন্তু ওষুধের কোনো কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ক্ষতস্থান থেকে মাংসের নমুনা রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তার ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ জুলাই থেকে জয়া রানী সরকারি যক্ষ্মার ওষুধ খাওয়া শুরু করেন।

ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান জানান, মে ও জুন মাসে এই হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রসূতি এবং গলব্লাডারে অস্ত্রোপচার হওয়া একজনসহ মোট ১২ জনের শরীরে পরবর্তীতে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যক্ষ্মার সুনির্দিষ্ট উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো বেশ পুরোনো। বিষয়টি জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের অনুরোধ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ, আইইডিসিআর এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) একটি যৌথ প্রতিনিধিদল পাবনায় পৌঁছেছে।

ফরিদপুর উপজেলা সদরের তেঁতুলতলা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত ১০ শয্যার এই আল-মদিনা হাসপাতালটি ২০২০ সাল থেকে চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালাতে অন্তত তিনজন স্থায়ী চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, লেবার রুম, ওটি, ৮০০ বর্গফুটের ওয়ার্ড ও ইমার্জেন্সি রুম থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এই হাসপাতালে ৮০০ বর্গফুটের কোনো কক্ষ নেই এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য নির্ধারিত কক্ষে কোনো শয্যাও দেখা যায়নি। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ রানা ও ওটি ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলাম প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার দাবি করলেও এর কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকি প্রসবকক্ষ নির্দেশিকা বা লেবার রুম প্রটোকল সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা নেই।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে যে যক্ষ্মা হয়, তাকে ফুসফুসবহির্ভূত বা এক্সট্রা-পালমুনারি টিবি বলা হয়। অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে হওয়া যক্ষ্মাও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যার জন্য রোগীকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ওটি ইনচার্জ আরিফুল ইসলামের মতে, ওটি অথবা কোনো সংক্রামক রোগী থেকে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা সংক্রমণের দায় স্বীকার করে বলেন, এটি তাদের জন্য একটি বড় ঘটনা এবং কীভাবে সংক্রমণ ঘটল তা তাদেরও জানা প্রয়োজন।

অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ও ওটি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করার কারণে যক্ষ্মা ছড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর ৫১ জন প্রসূতির শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছিল। ভেদরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, আইইডিসিআর ও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির যৌথ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মার্চ মাস থেকে ওই ক্লিনিকের ওটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশে যক্ষ্মার এমন সংক্রমণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা। জ্যেষ্ঠ প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রওশান আরা বেগম বলেন, আগে ল্যাপারোস্কোপির সময় যক্ষ্মা সংক্রমণের কথা শুনলেও এখন প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারে এমন ঘটনা ভীতিকর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ আসিফ মুজতবা মাহমুদ বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে ওটি এবং যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশ যক্ষ্মার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম, যেখানে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ মারা যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবনায় অস্ত্রোপচারের ক্ষত থেকে যক্ষ্মা সংক্রমণ, তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার ফরিদপুর উপজেলা সদরের আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের পর অন্তত ১২ জন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই প্রসূতি নারী, যারা মে ও জুন মাসে সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেছিলেন। এছাড়া অন্য এক ব্যক্তির পিত্তথলি বা গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা ধরা পড়েছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ করে দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আক্রান্তদের একজন থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী জয়া রানী দাস। গত ২২ মে আল-মদিনা হাসপাতালে ভর্তির পর ওই দিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার সন্তানের জন্ম হয়। ২৪ মে তিনি বাড়ি ফিরে যান এবং ২৯ মে সেলাই কেটে ড্রেসিং করান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে চললেও দুই সপ্তাহ পরও তার পেটের ক্ষত শুকায়নি। ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ ও রস বের হতে থাকায় তিনি বারবার হাসপাতালে যান, কিন্তু ওষুধের কোনো কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ক্ষতস্থান থেকে মাংসের নমুনা রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তার ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ জুলাই থেকে জয়া রানী সরকারি যক্ষ্মার ওষুধ খাওয়া শুরু করেন।

ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান জানান, মে ও জুন মাসে এই হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রসূতি এবং গলব্লাডারে অস্ত্রোপচার হওয়া একজনসহ মোট ১২ জনের শরীরে পরবর্তীতে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যক্ষ্মার সুনির্দিষ্ট উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো বেশ পুরোনো। বিষয়টি জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের অনুরোধ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ, আইইডিসিআর এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) একটি যৌথ প্রতিনিধিদল পাবনায় পৌঁছেছে।

ফরিদপুর উপজেলা সদরের তেঁতুলতলা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত ১০ শয্যার এই আল-মদিনা হাসপাতালটি ২০২০ সাল থেকে চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালাতে অন্তত তিনজন স্থায়ী চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, লেবার রুম, ওটি, ৮০০ বর্গফুটের ওয়ার্ড ও ইমার্জেন্সি রুম থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এই হাসপাতালে ৮০০ বর্গফুটের কোনো কক্ষ নেই এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য নির্ধারিত কক্ষে কোনো শয্যাও দেখা যায়নি। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ রানা ও ওটি ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলাম প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার দাবি করলেও এর কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকি প্রসবকক্ষ নির্দেশিকা বা লেবার রুম প্রটোকল সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা নেই।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ফুসফুস ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে যে যক্ষ্মা হয়, তাকে ফুসফুসবহির্ভূত বা এক্সট্রা-পালমুনারি টিবি বলা হয়। অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে হওয়া যক্ষ্মাও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যার জন্য রোগীকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ওটি ইনচার্জ আরিফুল ইসলামের মতে, ওটি অথবা কোনো সংক্রামক রোগী থেকে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা সংক্রমণের দায় স্বীকার করে বলেন, এটি তাদের জন্য একটি বড় ঘটনা এবং কীভাবে সংক্রমণ ঘটল তা তাদেরও জানা প্রয়োজন।

অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ও ওটি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করার কারণে যক্ষ্মা ছড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর ৫১ জন প্রসূতির শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছিল। ভেদরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, আইইডিসিআর ও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির যৌথ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মার্চ মাস থেকে ওই ক্লিনিকের ওটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশে যক্ষ্মার এমন সংক্রমণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা। জ্যেষ্ঠ প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রওশান আরা বেগম বলেন, আগে ল্যাপারোস্কোপির সময় যক্ষ্মা সংক্রমণের কথা শুনলেও এখন প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারে এমন ঘটনা ভীতিকর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ আসিফ মুজতবা মাহমুদ বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে ওটি এবং যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশ যক্ষ্মার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম, যেখানে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ মারা যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo