ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত, আহত ৭ বাংলা কিউআর লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯৯ অপারেটর নিয়োগের সরকারি আদেশ পাঁচ দিনেও পায়নি বিপিসি পুতিন কেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছেন: ক্ষমতার রাজনীতি ও বাস্তবতা ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, জানালেন কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু আজ বাসযাত্রায় তুলনামূলক নিরাপদ যে সারির আসন

বিচারকের খাসকামরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আদালতের এক পিয়নের ব্যাগ তল্লাশি করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের খাসকামরায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ঢাকা রেলওয়ে থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এ মারধরের এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার পর ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। একই সঙ্গে ঘটনার আগে আদালতের কর্মচারীর হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলি প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ একদল পুলিশ সদস্য। তারা সেখানে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করার সময় সাকিব আল হাসান নামের এক ব্যক্তি ব্যাগ তল্লাশিতে আপত্তি জানান। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে পুলিশের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই।

একপর্যায়ে সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত সোমবার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। তখন তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশ অনুযায়ী গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে বিচারকের খাসকামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে অন্যদের বাইরে রেখে শুধু তাকেই একা ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। মোহাম্মদ আলী ভেতরে ঢোকার পর খাসকামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বিচারকের পিয়ন সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ভেতরে ঢোকার পর হঠাৎ এক ব্যক্তি পেছন থেকে মোহাম্মদ আলীকে সজোরে আঘাত করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন এবং বিচারকের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, "স্যার, এটা কী হচ্ছে?" এ সময় ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলেন, "বুঝছস, আমরা কারা?" পুরো ঘটনাটি খাসকামরায় থাকা অন্য এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ভিডিও করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, "কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।" তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি বিচারককে বলেছিলেন, "আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?" পরে তাকে জোর করে ওই হামলাকারীর সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয় এবং এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এই ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ০২: ২১ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিচারকের খাসকামরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আদালতের এক পিয়নের ব্যাগ তল্লাশি করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের খাসকামরায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ঢাকা রেলওয়ে থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এ মারধরের এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার পর ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। একই সঙ্গে ঘটনার আগে আদালতের কর্মচারীর হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলি প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ একদল পুলিশ সদস্য। তারা সেখানে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করার সময় সাকিব আল হাসান নামের এক ব্যক্তি ব্যাগ তল্লাশিতে আপত্তি জানান। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে পুলিশের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই।

একপর্যায়ে সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত সোমবার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। তখন তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশ অনুযায়ী গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে বিচারকের খাসকামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে অন্যদের বাইরে রেখে শুধু তাকেই একা ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। মোহাম্মদ আলী ভেতরে ঢোকার পর খাসকামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বিচারকের পিয়ন সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ভেতরে ঢোকার পর হঠাৎ এক ব্যক্তি পেছন থেকে মোহাম্মদ আলীকে সজোরে আঘাত করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন এবং বিচারকের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, "স্যার, এটা কী হচ্ছে?" এ সময় ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলেন, "বুঝছস, আমরা কারা?" পুরো ঘটনাটি খাসকামরায় থাকা অন্য এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ভিডিও করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, "কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।" তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি বিচারককে বলেছিলেন, "আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?" পরে তাকে জোর করে ওই হামলাকারীর সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয় এবং এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এই ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ০২: ২১ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh