ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা: বোয়েসেল নিয়ে নতুন বিতর্ক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য দেশটির সরকার ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশটির অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীয় অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফডব্লিউএমএস) এই তালিকা প্রকাশ করার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি আবার চালুর আভাস মিলছে। তবে এই তালিকার কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আগের ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এই ২৫ এজেন্সির তালিকাকে একটি ‘নতুন সিন্ডিকেট’ হিসেবে দেখছেন। তবে এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রকাশিত তালিকাটি তাদের নিজস্ব বিষয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বোয়েসেলের মাধ্যমেই কর্মী পাঠানো হবে এবং তাতে দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সির কাজ করার সুযোগ থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে কোনো কিছু গোপন করার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আসলে কী প্রক্রিয়া চলছে, সে সম্পর্কে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যেন সব এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পায়, শ্রমিকরা সুরক্ষিত থাকে এবং সর্বনিম্ন খরচে মালয়েশিয়ায় যেতে পারে। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার উইংয়ের মিনিস্টার (লেবার) ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

এর আগে, গত ৩০ জুলাই কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে এবং আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হবে। ওই সময় তিনি প্রথম ধাপের নিয়োগপ্রক্রিয়া বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানোর কথা বলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের মে মাসের শেষে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়ায় অনেক কর্মী ছুটিতে দেশে এসে আর ফিরতে পারেননি।

বর্তমান সরকারের আমলে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময়েও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মালয়েশিয়া সফরের সময় শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার যাচাই-বাছাই করে ৩৪০টি এজেন্সির তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও মালয়েশিয়ার বাজারে আরও দুই বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে মাত্র ২৩ জন কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বাজারে সাড়ে ১৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছেন, যা মোট প্রবাসী কর্মীর ৯ শতাংশের বেশি। তবে বারবার বাজার বন্ধ হওয়ার কারণে জনশক্তি খাতে এটি একটি ‘অস্থিতিশীল বাজার’ হিসেবেও পরিচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা: বোয়েসেল নিয়ে নতুন বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য দেশটির সরকার ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশটির অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীয় অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফডব্লিউএমএস) এই তালিকা প্রকাশ করার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি আবার চালুর আভাস মিলছে। তবে এই তালিকার কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আগের ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এই ২৫ এজেন্সির তালিকাকে একটি ‘নতুন সিন্ডিকেট’ হিসেবে দেখছেন। তবে এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রকাশিত তালিকাটি তাদের নিজস্ব বিষয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বোয়েসেলের মাধ্যমেই কর্মী পাঠানো হবে এবং তাতে দেশের সব রিক্রুটিং এজেন্সির কাজ করার সুযোগ থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে কোনো কিছু গোপন করার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আসলে কী প্রক্রিয়া চলছে, সে সম্পর্কে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যেন সব এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পায়, শ্রমিকরা সুরক্ষিত থাকে এবং সর্বনিম্ন খরচে মালয়েশিয়ায় যেতে পারে। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার উইংয়ের মিনিস্টার (লেবার) ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

এর আগে, গত ৩০ জুলাই কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে এবং আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হবে। ওই সময় তিনি প্রথম ধাপের নিয়োগপ্রক্রিয়া বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানোর কথা বলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের মে মাসের শেষে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়ায় অনেক কর্মী ছুটিতে দেশে এসে আর ফিরতে পারেননি।

বর্তমান সরকারের আমলে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময়েও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মালয়েশিয়া সফরের সময় শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার যাচাই-বাছাই করে ৩৪০টি এজেন্সির তালিকা চূড়ান্ত করেছে। বাংলাদেশের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও মালয়েশিয়ার বাজারে আরও দুই বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে মাত্র ২৩ জন কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বাজারে সাড়ে ১৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছেন, যা মোট প্রবাসী কর্মীর ৯ শতাংশের বেশি। তবে বারবার বাজার বন্ধ হওয়ার কারণে জনশক্তি খাতে এটি একটি ‘অস্থিতিশীল বাজার’ হিসেবেও পরিচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh