খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ে না করেই ফিরলেন প্রবাসী বর
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাসির মাংস না পাওয়ার জেরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ বিয়ের আসর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই ফিরে গেছেন। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কনেপক্ষের ভাষ্যমতে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে বর জুনায়েদ আত্মীয়স্বজনসহ কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। বিয়ের গেটসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বরকে নির্ধারিত আসনে বসানো হয়। তবে আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়নের পর বরপক্ষের জন্য খদরে (বড় থালা) করে খাবার পরিবেশন করা হলে বিপত্তি ঘটে। খদরে খাসির মাংস না থাকায় বর জুনায়েদ আপত্তি জানান এবং খাসির মাংস ছাড়া খাবার গ্রহণ বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
কনেপক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নববধূকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা কনের বাবা শফিক মিয়ার কানে পৌঁছায়। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও বরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে কনের বাবা শেষ পর্যন্ত বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে বরকে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া জানান, খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে অনেক বোঝানো হলেও তিনি রাজি হননি এবং উল্টো খারাপ আচরণ করেছেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে পাল্টা অভিযোগ তোলেন বর জুনায়েদ। তিনি দাবি করেন, তাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং উপহারসামগ্রী ও লাগেজ ফেরত পাঠানো হয়। তবে বরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কাবিনের টাকা চাওয়ার এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। তিনি জানান, খাবারে খাসির বিষয়টি আগে জানানো হলে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নিতেন, কিন্তু এ বিষয়ে আগে তাকে কিছুই বলা হয়নি।



























