ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকরী অঙ্কুরিত মেথি? জেনে নিন খাওয়ার নিয়ম ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন ইবাদত সুন্দর ও নিখুঁত করার উপায় এবং কিছু বাস্তব আমল ঝুলে থাকা পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার টানাপোড়েন ইন্টারলোকেন আর্টস স্কুলে কয়েক দশকের যৌন নির্যাতনের তথ্য ফাঁস রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ শয্যা মুম্বাই থেকে আটক ভারতীয় নারীকে সাতক্ষীরায় পুশব্যাক জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে, মাসে বড় বৃদ্ধির শঙ্কা বিএনপি দলীয় কর্মীদের চাকরি দিচ্ছে, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

মুম্বাই থেকে আটক ভারতীয় নারীকে সাতক্ষীরায় পুশব্যাক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শাহিদা ফকির নামের এক ভারতীয় নারী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামে চরম অসহায় অবস্থায় আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় আবুল বাশার ও আরিফা দম্পতির বাড়িতে অবস্থান করছেন। শাহিদা ফকির জানান, তিনি গত ২০ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। চলতি মাসের ১৮ বা ১৯ তারিখ রাতে মুম্বাইয়ের একটি স্থানীয় বাজার থেকে সবজি ও রুটি কিনে ফেরার পথে ভারতীয় সিআইডি পরিচয়ে ৪-৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার কাছে প্রয়োজনীয় ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তা দেখতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তাকে কোনো যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। স্বজনেরা পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তীতে তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়া হয়। ৫-৬ জনের একটি দলের সঙ্গে সীমান্ত পার হওয়ার পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

শাহিদা ফকিরের ভাষ্যমতে, তার স্থায়ী ঠিকানা ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বেড়াচাঁপা থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। তার স্বামী ঘটনার এক মাস আগে বসিরহাটে চলে গিয়েছিলেন। শাহিদা আকুতি জানিয়ে বলেন, ভারতে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে এবং তিনি অবিলম্বে নিজ দেশে ফিরতে চান।

আশ্রয়দানকারী গৃহবধূ আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার বেনাপোল থেকে ফেরার সময় কাদা-মাটি মাখা ও কান্নাকাটি করা অবস্থায় শাহিদা ফকিরকে দেখতে পান। মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা গত পাঁচ দিন ধরে তাকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে আসা দুজন সাংবাদিক বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই নারী স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে ঢোকেননি, বরং ভারতের দূরবর্তী কোনো এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে। তবে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম এবং কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৩: ১০আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৩: ১০

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আপাতত কোনো মেম্বার না থাকায় আমি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়েছি। ভারত থেকে এক নারী এসে ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয়ে আছেন-ঘটনাটি সত্য। তিনি আমাদের স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে ঢোকেননি, ভারতের দূরবর্তী কোনো এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মুম্বাই থেকে আটক ভারতীয় নারীকে সাতক্ষীরায় পুশব্যাক

আপডেট সময় : ০২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
print news

ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শাহিদা ফকির নামের এক ভারতীয় নারী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামে চরম অসহায় অবস্থায় আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় আবুল বাশার ও আরিফা দম্পতির বাড়িতে অবস্থান করছেন। শাহিদা ফকির জানান, তিনি গত ২০ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। চলতি মাসের ১৮ বা ১৯ তারিখ রাতে মুম্বাইয়ের একটি স্থানীয় বাজার থেকে সবজি ও রুটি কিনে ফেরার পথে ভারতীয় সিআইডি পরিচয়ে ৪-৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার কাছে প্রয়োজনীয় ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তা দেখতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তাকে কোনো যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। স্বজনেরা পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তীতে তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়া হয়। ৫-৬ জনের একটি দলের সঙ্গে সীমান্ত পার হওয়ার পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

শাহিদা ফকিরের ভাষ্যমতে, তার স্থায়ী ঠিকানা ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বেড়াচাঁপা থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। তার স্বামী ঘটনার এক মাস আগে বসিরহাটে চলে গিয়েছিলেন। শাহিদা আকুতি জানিয়ে বলেন, ভারতে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে এবং তিনি অবিলম্বে নিজ দেশে ফিরতে চান।

আশ্রয়দানকারী গৃহবধূ আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার বেনাপোল থেকে ফেরার সময় কাদা-মাটি মাখা ও কান্নাকাটি করা অবস্থায় শাহিদা ফকিরকে দেখতে পান। মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা গত পাঁচ দিন ধরে তাকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে আসা দুজন সাংবাদিক বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই নারী স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে ঢোকেননি, বরং ভারতের দূরবর্তী কোনো এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে। তবে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম এবং কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৩: ১০আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৩: ১০

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আপাতত কোনো মেম্বার না থাকায় আমি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়েছি। ভারত থেকে এক নারী এসে ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয়ে আছেন-ঘটনাটি সত্য। তিনি আমাদের স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে ঢোকেননি, ভারতের দূরবর্তী কোনো এলাকা দিয়ে তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh