এমআইএসটি শিক্ষার্থী ইয়ামিন হত্যায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

- আপডেট সময় : ০১:২২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। রোববার সকালে প্রসিকিউশন পক্ষ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্ত সংস্থার দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার পর এই অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একই দিনে ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে শুনানির কথা রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগের তথ্যানুযায়ী, একপর্যায়ে ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তার বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়। গুলিতে তার শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাঁজোয়া যানের ওপর তুলে রেখে আন্দোলনকারীদের আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে গাড়িটি এলাকায় ঘোরানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় মৃত অবস্থায় ইয়ামিনকে সড়কে ফেলে দেওয়ার সময় সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্য তাকে পায়ে আবার গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মৃত ভেবে ওই সদস্য আর গুলি না করে তাকে রাস্তার এক পাশে টেনে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে রেখে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তখনও ইয়ামিনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় সাতজন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন এবং কনস্টেবল মাসুদ মিয়া। মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছে।



























