ভারতে ১১ বছরে ১.২৩ লাখ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, শীর্ষে মহারাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০২:২৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতে গত ১১ বছরে (২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত) ১ লাখ ২৩ হাজার ৯১৮ জন শিক্ষার্থী নিজের জীবনাবসান ঘটিয়েছেন। দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। মূলত পরীক্ষায় ব্যর্থতা এবং পারিবারিক সংকটকেই এসব আত্মহত্যার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনসিআরবির ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া’ (এডিএসআই) শীর্ষক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশটিতে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮টি। ২০২৪ সালে এসে এই সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৮৮টিতে। রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রে, যেখানে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা উত্তর প্রদেশে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ পারিবারিক সমস্যা। এর ঠিক পরেই রয়েছে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার গ্লানি। ২০২৪ সালে পরীক্ষায় ব্যর্থতার জেরে ২ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা ওই বছরের মোট শিক্ষার্থী আত্মহত্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোতে এই প্রবণতা অনেক বেশি।
এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলনে নেমেছেন। রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এনসিআরবির প্রতিবেদনে কোটা, দিল্লি-এনসিআর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও পুনের মতো বড় বড় শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং কোচিংনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিরূপ প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের এই মানসিক চাপ কমাতে ২০২২ সালে ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কৌশল’ প্রণয়ন করে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চালু হওয়া ‘মনোদর্শন’ হেল্পলাইনে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩২ হাজারের বেশি কল এসেছে বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে।


























