ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি

দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার একটি বড় অংশই শিশু। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের মতো মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারান। বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। শিশুদের এই নিরাপত্তাকে একটি সমষ্টিগত সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জোয়ার রোধ করা যায়’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন ডিজাস্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ড্যাডো)। সেমিনারে ড্যাডোর সভাপতি ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তার সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ড্যাডোর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম।

অধ্যাপক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। বাংলাদেশে অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটে, যখন মা-বাবা কর্মব্যস্ত থাকেন। তিনি বলেন, যথাযথ তত্ত্বাবধান, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব মৃত্যু অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দায় কেবল পরিবারের ওপর না চাপিয়ে প্রতিবেশী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। উপাচার্য মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী শিশু সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত করার ওপর জোর দেন। আনসার ও ভিডিপির পরিচালক আমিনুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট হিসেবে অভিহিত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

একই দিনে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত অপর এক আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও আধুনিক উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে পানিতে স্বজন হারানো অভিভাবকরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার একটি বড় অংশই শিশু। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের মতো মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারান। বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। শিশুদের এই নিরাপত্তাকে একটি সমষ্টিগত সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জোয়ার রোধ করা যায়’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন ডিজাস্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ড্যাডো)। সেমিনারে ড্যাডোর সভাপতি ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তার সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ড্যাডোর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম।

অধ্যাপক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। বাংলাদেশে অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটে, যখন মা-বাবা কর্মব্যস্ত থাকেন। তিনি বলেন, যথাযথ তত্ত্বাবধান, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব মৃত্যু অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দায় কেবল পরিবারের ওপর না চাপিয়ে প্রতিবেশী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। উপাচার্য মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী শিশু সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত করার ওপর জোর দেন। আনসার ও ভিডিপির পরিচালক আমিনুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট হিসেবে অভিহিত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

একই দিনে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত অপর এক আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও আধুনিক উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে পানিতে স্বজন হারানো অভিভাবকরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo