ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাবের গেজেট প্রকাশ অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফেরাতে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্ব হারালেন সালমান, পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ফারহান সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু করল মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার সমীকরণ এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে সাতক্ষীরার জয়জয়কার: ৩ স্বর্ণসহ ৪ পদক সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, করযোগ্য মাত্র ৩টি আয় পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’

জনগণই সরকারের ক্ষমতার প্রকৃত উৎস: মাহদী আমিন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকসের (দায়রা) আয়োজনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মাহদী আমিন জানান, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনর্মিলন ও সমঝোতার যে পথ তৈরি হয়েছে, তাকেই বর্তমান সরকার তার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, গত চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ সরকারবিহীন থাকা অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ওই সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি। তিনি দাবি করেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু এবং ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; কারণ বিএনপি সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।

তিনি আরও বলেন, কেবল একটি দলই নয়, তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিরাও গুমের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর ব্যথায় গভীরভাবে ব্যথিত। তার বাবা রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন, মাকে দীর্ঘ সময় জেলে রাখা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তার ভাইও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া তার নিজের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও অতীতে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান।

মাহদী আমিন বলেন, বিগত দেড় দশকের শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না, বরং তা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশ—পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন। বর্তমান সরকার একটি ‘রিসেট বোতাম’ চেপে সম্পূর্ণ পরিষ্কার এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, সরকার প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য বিচারের ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

জনগণই সরকারের ক্ষমতার প্রকৃত উৎস: মাহদী আমিন

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকসের (দায়রা) আয়োজনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মাহদী আমিন জানান, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর থেকে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনর্মিলন ও সমঝোতার যে পথ তৈরি হয়েছে, তাকেই বর্তমান সরকার তার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, গত চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ সরকারবিহীন থাকা অবস্থায় বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বিগত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ওই সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি। তিনি দাবি করেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু এবং ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; কারণ বিএনপি সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।

তিনি আরও বলেন, কেবল একটি দলই নয়, তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিরাও গুমের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর ব্যথায় গভীরভাবে ব্যথিত। তার বাবা রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন, মাকে দীর্ঘ সময় জেলে রাখা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তার ভাইও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া তার নিজের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও অতীতে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান।

মাহদী আমিন বলেন, বিগত দেড় দশকের শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না, বরং তা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশ—পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন। বর্তমান সরকার একটি ‘রিসেট বোতাম’ চেপে সম্পূর্ণ পরিষ্কার এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, সরকার প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য বিচারের ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor