ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, আশ্বস্ত শিক্ষক নেতারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সরাসরি দেখবেন যেভাবে বিএনপি অলিগার্ক তোষণের পথে হাঁটছে, অভিযোগ নাহিদ ইসলামের গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু ১১ অক্টোবর সিডনিতে বসছে চট্টগ্রাম ক্লাবের স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬ সাংবাদিক নুর মোহাম্মদকে হত্যার হুমকি, ইরাব ও বিএসআরএফের তীব্র নিন্দা ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত শিশু নূরের চিকিৎসায় সাহায্যের আকুল আবেদন বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, সাভারে জেএমবি আস্তানায় অভিযান বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম ফারুক গ্রেপ্তার আনসার ও ভিডিপির ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী বাছাই সম্পন্ন

হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দী শত শত মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের বসতঘরে পানি ঢুকে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ, হামুয়া ও লস্করপুর ইউনিয়নের সুঘর, বনগাঁওসহ আশপাশের প্রায় ২৫টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। প্লাবিত এলাকায় অনেক কাঁচা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জ-ভায়া-মিরপুর ও হবিগঞ্জ-ভায়া-ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্দার বাজার, সুঘর ও বনগাঁও এলাকার সড়কে প্রায় দুই ফুট পানি জমে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজান মিয়া জানান, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাঁধ ভাঙার শব্দ শোনার মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা দুই ফুট পানির নিচে চলে যায়। আরেক বাসিন্দা আবদুল আলী জানান, এলাকার স্কুল বা মাদ্রাসাগুলোও তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন পরিবার নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে কালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ওমর মিয়ার অভিযোগ, বাঁধের ভাঙনকবলিত অংশটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল এবং স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করলেও তারা কোনো মেরামত করেনি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধার করে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পানি আরও বাড়লে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দী শত শত মানুষ

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের বসতঘরে পানি ঢুকে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ, হামুয়া ও লস্করপুর ইউনিয়নের সুঘর, বনগাঁওসহ আশপাশের প্রায় ২৫টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। প্লাবিত এলাকায় অনেক কাঁচা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জ-ভায়া-মিরপুর ও হবিগঞ্জ-ভায়া-ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্দার বাজার, সুঘর ও বনগাঁও এলাকার সড়কে প্রায় দুই ফুট পানি জমে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজান মিয়া জানান, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাঁধ ভাঙার শব্দ শোনার মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা দুই ফুট পানির নিচে চলে যায়। আরেক বাসিন্দা আবদুল আলী জানান, এলাকার স্কুল বা মাদ্রাসাগুলোও তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন পরিবার নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে কালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ওমর মিয়ার অভিযোগ, বাঁধের ভাঙনকবলিত অংশটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল এবং স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করলেও তারা কোনো মেরামত করেনি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধার করে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পানি আরও বাড়লে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo