ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ মিয়ানমারে পণ্য রপ্তানির অর্থ আসবে তৃতীয় দেশ থেকে, ছাড় দিচ্ছে এনবিআর নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ দেড় হাজার হরমুজ প্রণালি খুলতে শর্তের তালিকা তৈরি করছে ইরান শরীয়তপুরে সাংবাদিক মারধরের পর বিএনপি নেতার পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ দুই বছরের প্রেমের ইতি টানলেন অনন্যা পাণ্ডে লা লিগায় জয়রথ অব্যাহত বার্সেলোনার, হারল আথলেতিক বিলবাও এলিয়েনের মুখোমুখি হলে মানুষের করণীয় কী? সিরাজগঞ্জে ট্রাকের পেছনে সিএনজির ধাক্কা, নিহত ২

খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ২০ গ্রাম প্লাবিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে হবিগঞ্জের খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা জনজীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় নদের দুটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হবিগঞ্জ সদর ও বানিয়াচং উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় প্রথম বাঁধটি ভেঙে প্রবল বেগে পানি হাওরে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় আরও একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এর ফলে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, ধোপাখাল এবং বনদক্ষিণ এলাকার একাংশসহ ১৫টিরও বেশি গ্রাম তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে কোমরসমান পানি ওঠায় নারী, শিশু ও বয়স্করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। এছাড়াও হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাসপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা রক্ষায় স্থানীয়রা বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাত ১১টার দিকে পানি বৃদ্ধির ফলে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, খোয়াই নদের চুনারুঘাট বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। যদিও সন্ধ্যার পর নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ২০ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে হবিগঞ্জের খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা জনজীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় নদের দুটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হবিগঞ্জ সদর ও বানিয়াচং উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় প্রথম বাঁধটি ভেঙে প্রবল বেগে পানি হাওরে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় আরও একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এর ফলে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, ধোপাখাল এবং বনদক্ষিণ এলাকার একাংশসহ ১৫টিরও বেশি গ্রাম তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে কোমরসমান পানি ওঠায় নারী, শিশু ও বয়স্করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। এছাড়াও হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাসপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা রক্ষায় স্থানীয়রা বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাত ১১টার দিকে পানি বৃদ্ধির ফলে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, খোয়াই নদের চুনারুঘাট বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। যদিও সন্ধ্যার পর নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy