ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চীনের জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২৮ শ্রমিকের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক কোয়ার্টার ফাইনালে ফেভারিট ফ্রান্সের মুখোমুখি মরক্কো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মুখোমুখি ফ্রান্স ও মরক্কো দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির শুধু হাতবদল হয়েছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মরক্কোর সংবাদ সম্মেলনে দুই সাংবাদিকের হাতাহাতি চীনের জুতা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ২৮ জন জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জাতীয় পরিবেশ মেলায় স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ তরুণ তারকা ইয়ামাল যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহে পথচারীদের তৃষ্ণা মেটালেন ওবায়দুল কবীর

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরি ও মাদক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় থানা প্রাঙ্গণে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানা হেফাজতে থাকাকালীন রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের ভাষ্য। রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় গভীর রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিকেলে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকিরের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে মারধর করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানান, হাজতে থাকাকালীন রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করেছে। ওসি আরও জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং থানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১২

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
print news

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরি ও মাদক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় থানা প্রাঙ্গণে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানা হেফাজতে থাকাকালীন রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের ভাষ্য। রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় গভীর রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিকেলে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকিরের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে মারধর করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানান, হাজতে থাকাকালীন রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করেছে। ওসি আরও জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং থানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।