ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে স্ট্যান্টবাজির রাজনীতি চলবে না: ফরহাদ হোসেন তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে, স্বস্তি ফিরছে তীরবর্তী এলাকায় কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যায় ২২ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ নরসিংদীর মেথিকান্দা স্টেশনে বৃদ্ধা হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের কাছে হারের পর হ্যান্ডবলের দাবি মরক্কোর কোচের গাজায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো ত্রাণ কর্মকর্তা ইসরাইলি হামলায় নিহত বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড গড়ে সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্স খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ২০ গ্রাম প্লাবিত দুই দশক পর ফিলিস্তিনে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা বিদেশে রফতানি হচ্ছে দিনাজপুরের কৃষক আনছার আলীর বাগানের আম

গাজায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো ত্রাণ কর্মকর্তা ইসরাইলি হামলায় নিহত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

গাজায় ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় প্রদর্শন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়ানো এক ত্রাণ কর্মকর্তা ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজার ‘মিসরীয় ত্রাণ কমিটি’র জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি (৫৭) চলতি সপ্তাহে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি ট্যাক্সিতে যাওয়ার সময় এই হামলার শিকার হন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মিসর বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচের ঠিক আগের দিন এই হামলা চালানো হয়। এতে আল-ওয়াহিদিসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ ও ৮ বছর বয়সী পথচারী দুই ভাই-বোনও রয়েছে।

নিহত আল-ওয়াহিদি গাজায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার, রাস্তাঘাট উন্মুক্ত করা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কাজে যুক্ত ছিলেন। মিসরীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি একজন অত্যন্ত সম্মানিত সমাজসেবক ছিলেন, যিনি বিরোধ নিষ্পত্তি ও ক্ষুধার্তদের অন্নসংস্থানের পাশাপাশি বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের মনে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করতেন। তার ছেলে ফাওয়াজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তার বাবা বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।

মিসরের দুটি নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আল-ওয়াহিদি ত্রাণ সংস্থায় লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে মিসরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরাইলের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং গাজায় ক্রমাগত হত্যাকাণ্ড ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাধার নিন্দা প্রকাশ করেছেন। গত বুধবার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ফিলিস্তিন ও মিসরের পতাকায় জড়ানো অবস্থায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৭ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ১১৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো ত্রাণ কর্মকর্তা ইসরাইলি হামলায় নিহত

আপডেট সময় : ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

গাজায় ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় প্রদর্শন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়ানো এক ত্রাণ কর্মকর্তা ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজার ‘মিসরীয় ত্রাণ কমিটি’র জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি (৫৭) চলতি সপ্তাহে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি ট্যাক্সিতে যাওয়ার সময় এই হামলার শিকার হন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মিসর বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচের ঠিক আগের দিন এই হামলা চালানো হয়। এতে আল-ওয়াহিদিসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ ও ৮ বছর বয়সী পথচারী দুই ভাই-বোনও রয়েছে।

নিহত আল-ওয়াহিদি গাজায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার, রাস্তাঘাট উন্মুক্ত করা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কাজে যুক্ত ছিলেন। মিসরীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি একজন অত্যন্ত সম্মানিত সমাজসেবক ছিলেন, যিনি বিরোধ নিষ্পত্তি ও ক্ষুধার্তদের অন্নসংস্থানের পাশাপাশি বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের মনে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করতেন। তার ছেলে ফাওয়াজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তার বাবা বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।

মিসরের দুটি নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আল-ওয়াহিদি ত্রাণ সংস্থায় লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে মিসরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরাইলের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং গাজায় ক্রমাগত হত্যাকাণ্ড ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাধার নিন্দা প্রকাশ করেছেন। গত বুধবার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ফিলিস্তিন ও মিসরের পতাকায় জড়ানো অবস্থায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৫০৭ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ১১৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।