ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ায় নতুন দুটি নদীবন্দর ঘোষণা করল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্দরে সতর্কসংকেত হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দী শত শত মানুষ অনুমতি ছাড়া প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, প্রকৌশলী বরখাস্ত বিশ্বকাপ: ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে চার বছরের স্বপ্নের চূড়ান্ত বিচার সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা স্কটে সাজেক ছাড়লেন ৪২১ পর্যটক ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬-এর খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে স্ট্যান্টবাজির রাজনীতি চলবে না: ফরহাদ হোসেন তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে, স্বস্তি ফিরছে তীরবর্তী এলাকায় কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যায় ২২ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ

বিশ্বকাপ: ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে চার বছরের স্বপ্নের চূড়ান্ত বিচার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজতে সময় লাগে ৯০ মিনিট, যা অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুটআউট মিলিয়ে বড়জোর দুই ঘণ্টা। অথচ এই সামান্য সময়ের জন্যই একটি দেশ চার বছর ধরে অপেক্ষা করে। একজন ফুটবলার তার জীবনের সেরা সময়গুলো উৎসর্গ করেন, কোচ কাটান নির্ঘুম রাত, আর কোটি কোটি সমর্থক বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনেন। দিনশেষে সবুজ ঘাসের ওপর এক বিকেল বা সন্ধ্যায় সবকিছুর বিচার হয়ে যায়। বিশ্বকাপ হলো সময়ের সবচেয়ে নির্মম আদালত।

অতীতের সাফল্য বা খ্যাতি এখানে কোনো কাজে আসে না; শুধু ওই দিনের পারফরম্যান্সই সবকিছু নির্ধারণ করে। যেমন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা ব্রাজিল নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বকে অবাক করেছে। একইভাবে মরক্কো কানাডাকে হারিয়ে এবং ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে লড়াই করে আফ্রিকার ফুটবলের শক্তি প্রমাণ করেছে। স্পেন তরুণদের নির্ভীকতা ও দ্রুত পাসিংয়ের নতুন দর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে, আবার বেলজিয়ামের জন্য এটি ছিল সোনালি প্রজন্মের শেষ অধ্যায়। ইংল্যান্ড প্রতিবারই বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামে, আর আর্জেন্টিনা প্রতিটি ম্যাচে কোটি মানুষের স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করে। সুইজারল্যান্ডও শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের মাধ্যমে বড় দলগুলোকে বিপদে ফেলেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাস নির্মম। ১৯৫০ সালে মারাকানায় উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের হার আজও ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত। এছাড়া ১৯৮২ সালে ব্রাজিলের ট্রফি হাতছাড়া, ১৯৯৪ সালে রবার্তো বাজ্জোর পেনাল্টি মিস, ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদানের হেডবাট বিদায়, ২০১৪ সালে ব্রাজিলের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া কিংবা ২০১৮ সালে জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়—সবই বিশ্বকাপের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী। ২০২২ সালে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার কিংবা মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে যে, বিশ্বকাপে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

বিশ্বকাপে কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই। অন্য টুর্নামেন্টগুলো দুই-এক বছর পর ফিরে এলেও বিশ্বকাপের জন্য চার বছর অপেক্ষা করতে হয়, যা অনেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে আর আসে না। বয়স, চোট বা ফর্মের কারণে অনেকেই শেষবারের মতো মাঠে নামেন। ম্যাচ শেষে কেউ আনন্দে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, কেউ আবার চোখের জলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। তবুও এই নীরবতার ভেতর থেকেই জন্ম নেয় নতুন প্রতিজ্ঞা। বিশ্বকাপ শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়; এটি চার বছরের ঘাম, ত্যাগ, বিশ্বাস ও অশ্রুর মহাকাব্য, যেখানে সবাই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ: ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে চার বছরের স্বপ্নের চূড়ান্ত বিচার

আপডেট সময় : ০৩:০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজতে সময় লাগে ৯০ মিনিট, যা অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুটআউট মিলিয়ে বড়জোর দুই ঘণ্টা। অথচ এই সামান্য সময়ের জন্যই একটি দেশ চার বছর ধরে অপেক্ষা করে। একজন ফুটবলার তার জীবনের সেরা সময়গুলো উৎসর্গ করেন, কোচ কাটান নির্ঘুম রাত, আর কোটি কোটি সমর্থক বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনেন। দিনশেষে সবুজ ঘাসের ওপর এক বিকেল বা সন্ধ্যায় সবকিছুর বিচার হয়ে যায়। বিশ্বকাপ হলো সময়ের সবচেয়ে নির্মম আদালত।

অতীতের সাফল্য বা খ্যাতি এখানে কোনো কাজে আসে না; শুধু ওই দিনের পারফরম্যান্সই সবকিছু নির্ধারণ করে। যেমন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা ব্রাজিল নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বকে অবাক করেছে। একইভাবে মরক্কো কানাডাকে হারিয়ে এবং ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে লড়াই করে আফ্রিকার ফুটবলের শক্তি প্রমাণ করেছে। স্পেন তরুণদের নির্ভীকতা ও দ্রুত পাসিংয়ের নতুন দর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে, আবার বেলজিয়ামের জন্য এটি ছিল সোনালি প্রজন্মের শেষ অধ্যায়। ইংল্যান্ড প্রতিবারই বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামে, আর আর্জেন্টিনা প্রতিটি ম্যাচে কোটি মানুষের স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করে। সুইজারল্যান্ডও শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের মাধ্যমে বড় দলগুলোকে বিপদে ফেলেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাস নির্মম। ১৯৫০ সালে মারাকানায় উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের হার আজও ‘মারাকানাজো’ নামে পরিচিত। এছাড়া ১৯৮২ সালে ব্রাজিলের ট্রফি হাতছাড়া, ১৯৯৪ সালে রবার্তো বাজ্জোর পেনাল্টি মিস, ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদানের হেডবাট বিদায়, ২০১৪ সালে ব্রাজিলের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া কিংবা ২০১৮ সালে জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়—সবই বিশ্বকাপের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী। ২০২২ সালে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার কিংবা মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে যে, বিশ্বকাপে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

বিশ্বকাপে কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই। অন্য টুর্নামেন্টগুলো দুই-এক বছর পর ফিরে এলেও বিশ্বকাপের জন্য চার বছর অপেক্ষা করতে হয়, যা অনেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে আর আসে না। বয়স, চোট বা ফর্মের কারণে অনেকেই শেষবারের মতো মাঠে নামেন। ম্যাচ শেষে কেউ আনন্দে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, কেউ আবার চোখের জলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। তবুও এই নীরবতার ভেতর থেকেই জন্ম নেয় নতুন প্রতিজ্ঞা। বিশ্বকাপ শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়; এটি চার বছরের ঘাম, ত্যাগ, বিশ্বাস ও অশ্রুর মহাকাব্য, যেখানে সবাই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।