দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার সকালে উত্তর কোরিয়ার এই নতুন সামরিক তৎপরতার খবর নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলবর্তী বন্দরনগরী উনসান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের (প্রায় ৪৩৫ মাইল) বেশি পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর শনিবার জাপানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। টোকিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পিয়ংইয়ং একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ভূখণ্ড কিংবা তাদের মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেনি।
পিয়ংইয়ংয়ের এই সামরিক পদক্ষেপের ঠিক এক দিন আগে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দাবিকে তীব্র উপহাস করেছিলেন। মূলত সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের দাবি, সামরিক সীমারেখার দক্ষিণে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন থেকেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হন, যারা চার কিলোমিটার (প্রায় ২.৫ মাইল) প্রশস্ত সীমান্ত এলাকায় একটি নিয়মিত নজরদারি অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। একই সঙ্গে সীমান্তে মাইন ও ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধক স্থাপনসহ উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানায় সিউল।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এসব দাবিকে ‘একেবারেই করুণ’ বলে উপহাস করেছেন কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া একের পর এক সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে তারা কথিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষা করেছে, সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে এবং একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল দেশটি।
ওই বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হন। তারা চার কিলোমিটার প্রশস্ত সীমান্ত এলাকায় একটি নজরদারি অভিযানে ছিলেন। কোরীয় উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত এই সীমান্ত অঞ্চলটি প্রায় ২ দশমিক ৫ মাইল প্রশস্ত।




























