আকস্মিক বন্যা কী এবং এর পূর্বাভাস পাওয়ার সুযোগ আছে কি
- আপডেট সময় : ০৪:৪১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো আট শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে প্রায়ই এ ধরনের বন্যার খবর পাওয়া যায়। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, আকস্মিক বন্যা হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা অত্যন্ত দ্রুত ও অপ্রত্যাশিতভাবে গিরিখাত, সংকীর্ণ খাদ বা উপত্যকার মতো নিচু এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। সাধারণত নদনদীর পানি ধীরে বাড়লেও আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিপাতেই শুকনো নদী কূল ছাপিয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, এই ধরনের বন্যা সাধারণত বজ্রঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা পাহাড়ে তুষার ও বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাঁধ ভেঙে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
আকস্মিক বন্যার স্থায়িত্ব সাধারণত কম হলেও এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অপরিসীম। এটি স্থাপনার ভিত্তি উপড়ে ফেলা, সড়ক-সেতু ধ্বংস করা এবং বড় গাছ উপড়ে ফেলার মতো শক্তিশালী পানির দেয়াল তৈরি করতে পারে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ এই বন্যায় প্রাণ হারান, যার অধিকাংশের মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যমতে, বৃষ্টির তীব্রতা, বিস্তৃতি এবং ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি নির্ধারণ করে। খাড়া ঢালযুক্ত এলাকা, শক্ত মাটি কিংবা দাবানলে উদ্ভিদ পুড়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোতে পানি দ্রুত প্রবাহিত হয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত করে। এছাড়া উষ্ণ জলবায়ু বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় ভারী বৃষ্টির প্রবণতা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার ঘনত্ব সাত শতাংশ বাড়তে পারে। নেপালের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তন ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বন্যার মতো আকস্মিক বন্যারও পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব, তবে এর প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সময়। সরদার উদয় রায়হান জানান, পাহাড়ি অববাহিকায় তথ্যের ঘাটতি এবং হাইড্রোলজিক্যাল বা মেটারোলজিক্যাল স্টেশনের স্বল্পতার কারণে দ্রুত তথ্য পাওয়া কঠিন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার আগাম পূর্বাভাসকে নির্ভরযোগ্য লিড টাইম ধরা হয়। বর্তমান সময়ে রাডার, স্যাটেলাইট ও অটোম্যাটিক সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে। নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ ঠাকুরি বলেন, হিমবাহের আশপাশে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বসিয়ে হ্রদের পানির স্তর ও বাঁধের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক মাত্রার দুর্যোগের ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলচক ক্যাম্পাসের ডিজাস্টার স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক বসন্ত অধিকারী। তিনি জানান, দুর্গম এলাকায় স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন করা জরুরি, অন্যথায় তথ্যের অভাবে সীমান্তের নিচের দিকের জনবসতিগুলো বেশি ক্ষতির শিকার হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনবসতি সরিয়ে নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসতি স্থাপন না করাকেও সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।



























