ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান
- আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনকে এখন এশিয়া ও ইউরোপের মিত্র দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা চাপে পড়ছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন হিসাব-নিকাশের সুযোগ পাচ্ছে।
সিনিয়র মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে হামলা এবং পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য জটিল ও নির্ভুল প্রযুক্তির পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে অস্ত্রভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটির হাতে ১ হাজার ৭০০টির কম এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও মজুত পুনরায় পূরণ করতে দুই বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অস্ত্রভাণ্ডারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধের অবসান ঘটেনি।
এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে ইউরোপ ও এশিয়া থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে মার্কিন বাহিনীর সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সেনাদের মনোবল এবং সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর। এশিয়া অঞ্চলে চীনের সম্ভাব্য তাইওয়ান অভিযান মোকাবিলায় মোতায়েন থাকা টমাহকসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নজরদারি সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ায় সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।



























