ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, নেপথ্যে ভ্যান্স ও জেনারেল কেইনের উদ্বেগ

- আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

হোয়াইট হাউসে গত শুক্রবার আয়োজিত এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তবে সেই বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে এই তথ্য জানিয়েছেন। টানা ১৩ দিন প্রতি রাতে ইরানে বোমাবর্ষণের পর গত শুক্রবার রাতে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই অভিযান স্থগিত করেছে। পরবর্তী সময়ে শনিবার পেন্টাগনের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায় যে, ইরানে অভিযান বর্তমানে ‘স্থগিত’ রয়েছে।
বৈঠকে জেনারেল কেইন বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত এবং অভিযানের সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি ট্রাম্পকে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম, তবে এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক ইরানির মৃত্যু হতে পারে এবং সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটের মতো চরম দুর্ভোগে পড়তে পারে। বৈঠকে গোলাবারুদের ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে সমালোচকরা মনে করেন।
বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ উপদেষ্টা ট্রাম্পকে পরামর্শ দেন যে, বড় ধরনের হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে, তবে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরিণতিগুলো বিবেচনা করতে হবে। উত্থাপিত উদ্বেগের মধ্যে ছিল শরণার্থী সংকট, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা এবং আঞ্চলিকভাবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে বা মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চললে সব ধরনের পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে। জেনারেল ড্যান কেইনের মুখপাত্র প্রেসিডেন্টের সামরিক পরামর্শের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনও এই পরিস্থিতিকে অর্থহীন যুদ্ধ উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলে এবং পেন্টাগনে এমন ধারণা রয়েছে যে, সংঘাত বাড়ানোর কৌশল ট্রাম্পের জন্য আশানুরূপ ফলাফল বয়ে আনবে না। শুক্রবারের বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চলছে এবং সামরিক বাহিনী চাইলে হামলার মাত্রা আরও বাড়াতে পারে। তবে সবকিছুর পরও তিনি গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের উপলব্ধিকে স্পষ্ট করে।



























