চুকনগরে অবৈধ মার্কেট নির্মাণে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

খুলনার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চুকনগরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি মার্কেট নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদের জায়গায় আইন লঙ্ঘন করে নির্মিত এই স্থাপনা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুই পক্ষ তৈরি হয়েছে। এই বিরোধের প্রভাব স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতেও পড়েছে, যার ফলে দল থেকে বহিষ্কার, প্রকাশ্যে সংঘাত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষোদ্গারের মতো ঘটনা ঘটছে।
ব্যবসায়ীদের এক পক্ষ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে, অপর পক্ষের দাবি, তারা মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন, তাই মার্কেট ভেঙে দিলে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন। এ বিষয়ে চুকনগর বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য (খুলনা-৫) এবং খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৪১ সালে ভদ্রা নদীর তীরে নির্মিত ডাকবাংলোর সামনে ৫৬ শতক সরকারি জমি ছিল। ২০২০ সালে তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনর রশিদের সিদ্ধান্তে জরাজীর্ণ ডাকবাংলো ভেঙে ফেলা হয়। এরপর সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ অনুসারী জয়দেব আঢ্য ও ইন্দ্রজিত দেব নিজস্ব অর্থায়নে সেখানে পাকা মার্কেট নির্মাণ করেন। সরকারি খাস জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১৭-এর ৭ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জেলা পরিষদ ৮৮ জনকে বরাদ্দপত্র দিলেও সেখানে ১২৬টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্তদের সিংহভাগই ছিল ওই দুই ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন ও কর্মচারী, এমনকি জেলা পরিষদের ১১ জন নির্বাচিত সদস্যের নামও তালিকায় ছিল। দোকানগুলো ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রির পাঁয়তারা করা হয়। বিভিন্ন মহলের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা রশীদ ২০২৪ সালের ১০ আগস্টের মধ্যে অবৈধ ভবন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগস্ট অভ্যুত্থানের পর জেলা পরিষদের বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান দোকান বিক্রির নতুন প্রক্রিয়া শুরু করলে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করেন এবং পরবর্তীতে তাকে বদলি করা হয়।
পটপরিবর্তনের পর থেকে যতিন কাশেম সড়কের ৭৫টি দোকানের খাজনা আদায় বন্ধ ছিল। বর্তমানে খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বকেয়া খাজনা আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ অফিসের নিচে থাকা দুটি দোকানের ৩০ বছরের বকেয়া ছয় লাখ টাকা খাজনা আদায় করেছেন। এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরদার বিল্লাল হোসেনকে বহিষ্কার করেছে খুলনা জেলা বিএনপি।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী জানান, মার্কেটগুলো আগের সরকারের সময়ে তৈরি। তিনি বকেয়া খাজনা আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তিনি আরও বলেন, কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।



























