ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুজবে বিশ্বাস নেই মির্জা ফখরুলের নাইজেরিয়ায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল এনুগু এয়ার, রক্ষা পেলেন ৬৮ যাত্রী কৈশোর স্বাস্থ্যসেবায় ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার মডেলের সুপারিশ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাজারে পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির দাম আরও বেড়েছে ২৪ জুলাই ২০২৪: কারফিউ ও চিরুনি অভিযানে সারা দেশে ব্যাপক গ্রেপ্তার ৮০টিরও বেশি দেশে নতুন শুল্ক আরোপ করল মার্কিন প্রশাসন নৌযান শুমারি ২০২৬: ডাটাবেজ তৈরিতে রংপুরে অবহিতকরণ সেমিনার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমালো বাজুস, নতুন দর কার্যকর

ট্রাম্পের নতুন শর্তে ভেস্তে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পারমাণবিক চুক্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর গত বৃহস্পতিবার একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী অনলাইনে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে স্বাক্ষরের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শর্ত ও আপত্তির কারণে চুক্তিটি এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন নির্ভর করবে সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিচ্ছে কি না, তার ওপর। এছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি জনসমক্ষে উন্মোচন করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এই চুক্তির সমালোচনা করা হয়েছিল, যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে বাইডেন প্রশাসন যা শর্ত হিসেবে রেখেছিল—অর্থাৎ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ—তা ছাড়াই কেন ট্রাম্প প্রশাসন সৌদিকে এই পারমাণবিক সুবিধা দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থানে সৌদি আরব চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবেন না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে শুরু থেকেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে জ্বালানি দপ্তর দাবি করেছে যে তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করছিল।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে চুক্তিটিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত তদারকি কাঠামোর বাধ্যবাধকতা না থাকা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। ট্রাম্পের নতুন শর্তের ফলে দীর্ঘদিনের আলোচনার ফসল এই পারমাণবিক চুক্তিটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার পথে রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের নতুন শর্তে ভেস্তে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পারমাণবিক চুক্তি

আপডেট সময় : ১১:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
print news

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর গত বৃহস্পতিবার একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী অনলাইনে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে স্বাক্ষরের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শর্ত ও আপত্তির কারণে চুক্তিটি এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন নির্ভর করবে সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিচ্ছে কি না, তার ওপর। এছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি জনসমক্ষে উন্মোচন করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এই চুক্তির সমালোচনা করা হয়েছিল, যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে বাইডেন প্রশাসন যা শর্ত হিসেবে রেখেছিল—অর্থাৎ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ—তা ছাড়াই কেন ট্রাম্প প্রশাসন সৌদিকে এই পারমাণবিক সুবিধা দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থানে সৌদি আরব চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবেন না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে শুরু থেকেই সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে জ্বালানি দপ্তর দাবি করেছে যে তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করছিল।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে চুক্তিটিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত তদারকি কাঠামোর বাধ্যবাধকতা না থাকা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। ট্রাম্পের নতুন শর্তের ফলে দীর্ঘদিনের আলোচনার ফসল এই পারমাণবিক চুক্তিটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার পথে রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin