৮০টিরও বেশি দেশে নতুন শুল্ক আরোপ করল মার্কিন প্রশাসন
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন প্রশাসন তাদের বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ও বিস্তৃত শুল্ক নীতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে পূর্বের ১০ শতাংশের সার্বজনীন বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে।
নতুন এই শুল্ক নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রসহ ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হবে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। গ্রিয়ারের ভাষ্যমতে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই ধারাটি ব্যবহৃত হয় এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিকৃতি দূর করতে সহায়ক হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের সমালোচনা উঠেছে। দেশটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ হোমস মন্তব্য করেছেন, জোরপূর্বক শ্রমের মতো সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর। কানাডার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তারা নিজে জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, তাই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা ঠিক নয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরেই আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন খাত সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। তার দাবি, এই উদ্যোগের ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে এবং অন্য দেশগুলোর তথাকথিত অন্যায্য বাণিজ্যনীতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এদিকে নতুন এই শুল্কনীতি নিয়ে আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, শান্তিকালীন সময়ে বিস্তৃত শুল্ক আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি ভিত্তিতে সাময়িক শুল্ক আরোপ করলেও শুক্রবার সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, যার ফলে এবার ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হলো। বাণিজ্য বিশ্লেষক ও পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালান উলফের মতে, এই পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।





























