ট্রাম্পের নতুন শর্তে অনিশ্চয়তায় সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি
- আপডেট সময় : ১১:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর সই হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি ঘোষণার মাত্র একদিনের মাথায় গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে প্রথমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে এবং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং রিয়াদ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া সৌদি জ্বালানি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নতুন শর্তের কথা জানান।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ উদ্যোগের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসকে স্পষ্টভাবে না জানিয়ে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই চুক্তি প্রকাশ করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিশেষ করে ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয় এবং রক্ষণশীল পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার পর ট্রাম্পের অসন্তোষ আরও বাড়ে। ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রশ্ন তোলে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করেই কেন রিয়াদের সঙ্গে এমন চুক্তি করা হলো, যেখানে বাইডেন প্রশাসনও এটিকে পূর্বশর্ত হিসেবে রেখেছিল।
এই চুক্তি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানোর আগেই এবং প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি বিভাগ এটি প্রকাশ করেছে। তবে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বেন ডিটডেরিখ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র doptor-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের জ্বালানি দল সম্পূর্ণ একমত যে এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের ওপরই নির্ভরশীল।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থানে সৌদি আরবও বেশ বিস্মিত হয়েছে। কারণ খসড়া চুক্তিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। বরং শর্তসাপেক্ষে সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কিছু পরিদর্শনের সীমাবদ্ধতার বিষয় যুক্ত ছিল। সমালোচকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়াবে। তবে চুক্তির সমর্থকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অংশীদার না হলে চীন বা রাশিয়া এই সুযোগ লুফে নেবে, যা মার্কিন কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিপন্থী। এছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পকে प्रभावित করেছেন এমন গুঞ্জন থাকলেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের মধ্যে সম্প্রতি কোনো কথা হয়নি।





























