যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

- আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি এই দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চতুর্থ এবং গত এক দশকের মধ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো নেতার অভিষেক হলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বার্নহ্যাম। এরপর সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখানে রাজকীয় রীতি অনুযায়ী রাজা তাকে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। বার্নহ্যামের সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগেই কিয়ার স্টারমার রাজার কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
রাজার কাছ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরাসরি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যান। সেখানে নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করার আগে তিনি গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখেন। মূলত একাধিক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দলের অভ্যন্তরেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের অনেক সংসদ সদস্য ও কয়েকজন মন্ত্রীর সমর্থন হারানোর পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তাকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বার্নহ্যামের সহযোগীদের আয়োজিত একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পুনরায় সংসদে ফিরে আসেন এবং স্টারমারকে সরিয়ে দলের হাল ধরেন।
লেবার পার্টির নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর পদে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নির্বাচনটি ছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দল থেকে অন্য কোনো প্রার্থী তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় সীমিত পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই তিনি নেতা নির্বাচিত হন। এর আগে ২০২২ সালেও প্রায় একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঋষি সুনাক যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে সুনাক দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে লিজ ট্রাসের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ট্রাসের শেষ মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অবশ্য যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য (এমপি) ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজের সংসদীয় আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবারও জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসে শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন তিনি।



























